Scan & Get our app!
Get our app!
Download our app and stay connected on the go.
Scan & Get our app!
Scan QR-code to download our app and stay connected on the go.

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প 1 আগস্টের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত না হলে জাপানের ওপর 25%, কানাডার ওপর 35% এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মেক্সিকোর ওপর 30% শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ নতুন করে উসকে দিয়েছেন। এর পর সপ্তাহের শুরুতে নড়বড়ে অবস্থায় ছিল বাজার। তাঁর কঠোর অবস্থানে বৈশ্বিক বাজার অস্থির হয়ে ওঠে, ঝুঁকি এড়ানোর মনোভাব জোরালো হয় এবং বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নেন।
ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা পরিস্থিতির ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করেছে। লোহিত সাগরে হামলার অভিযোগের পর ইসরায়েল ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এদিকে, ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহে মিত্রদের রাজি করানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টা আরও জোরদার হয়েছে। Axios-এর প্রতিবেদন পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। এতে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ইউক্রেনের জন্য নতুন ‘আগ্রাসী’ অস্ত্র প্যাকেজসহ বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এতে এমন দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র থাকতে পারে, যা রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে আঘাত হানতে সক্ষম—আগের প্রতিরক্ষামূলক সীমার অনেক বাইরে। অন্যদিকে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট Emmanuel Macron কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে প্রতিরক্ষা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের স্বাধীনতা এখন সবচেয়ে বড় হুমকির মুখে।
এদিকে, সুদের হার কমানোর জন্য ট্রাম্পের ধারাবাহিক আহ্বান Federal Reserve-এর সর্বশেষ সভার কার্যবিবরণীতে অনেকটাই উপেক্ষিত হয়েছে। নীতিনির্ধারকেরা তথ্যনির্ভর পদ্ধতি বজায় রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। Fed কর্মকর্তা অস্টান গুলসবি সতর্ক করেছেন, নতুন শুল্ক সম্ভাব্য সুদের হার কমানোর পদক্ষেপ বিলম্বিত করতে পারে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের দাবি কমে আসা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ে স্থায়ী উদ্বেগ। রেকর্ড উচ্চতায় থাকা শেয়ারবাজার, অমীমাংসিত বাণিজ্য সমস্যা, অভিবাসন নীতির কড়াকড়ি এবং আসন্ন বাজেট বিল নিয়ে অনিশ্চয়তা এসব উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ফলে Fed-এর নীতি শিথিল করার প্রত্যাশা আরও কমেছে, যা US Dollar Index-কে টানা দুই সপ্তাহের পতন থামিয়ে সোমবার সামান্য বাড়তে সাহায্য করেছে।
এশিয়ায়, জুনে চীনের বাণিজ্য-সংক্রান্ত তথ্য প্রত্যাশার চেয়ে ভালো এসেছে। আমদানির তুলনায় রপ্তানি বেশি বাড়ায় মার্কিন ডলারে হিসাব করা বাণিজ্য উদ্বৃত্ত বেড়েছে। ব্লুমবার্গের পূর্বাভাস অনুযায়ী, 2025 সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে চীনের অর্থনীতি সরকারের বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সামান্য বেশি হারে বেড়ে থাকতে পারে। এই ইতিবাচক পরিস্থিতিতে জল্পনা তৈরি হয়েছে, বেইজিং হয়তো এখন তাদের বড় ধরনের প্রণোদনা পরিকল্পনা স্থগিত রাখতে পারে—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য আলোচনা এগোতে থাকলে।
অন্যদিকে, জাপানের প্রকাশিত অর্থনৈতিক তথ্য ছিল মিশ্র এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছাতে দেশটি এখনও হিমশিম খাচ্ছে। একইভাবে, EU, কানাডা এবং অন্যান্য বড় অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক এড়ানোর চেষ্টা করছে, তবে সাফল্য সীমিত।
বাজারে মার্কিন ডলারের শক্তি এবং অবনতিশীল মনোভাব প্রধান মুদ্রা ও পণ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অ্যান্টিপোডিয়ান মুদ্রাগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। $3,340-এর কাছাকাছি গুরুত্বপূর্ণ রেজিস্ট্যান্স ভেঙে সেটিকে সাপোর্টে পরিণত করার পর সোনার দাম কমেছে। ডলার আরও শক্তিশালী হওয়ায় সোনার দাম আরও নিচে নামার আশঙ্কা রয়েছে। সরবরাহের ঝুঁকি নিয়ে খবর থাকা সত্ত্বেও অপরিশোধিত তেলও লাভ ধরে রাখতে পারেনি। ডলার শক্তিশালী হওয়া এবং প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল থাকলে চীন প্রণোদনামূলক পদক্ষেপের গতি কমাতে পারে—এমন জল্পনার মধ্যে তেলের দাম কমেছে।
তবু ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলো অন্য বাজার থেকে আলাদা হয়ে আবারও শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। Bitcoin প্রায় $118,000-এ উঠে সর্বকালের নতুন সর্বোচ্চ স্তর ছুঁয়েছে, আর Ethereum ফেব্রুয়ারির শুরুর পর সর্বোচ্চ স্তরে উঠেছে। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের শেয়ারবাজারগুলো কিছুটা নিচে নেমেছে, আর বন্ডের ইল্ড বেড়েছে—যা বাজারের ক্রমবর্ধমান সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (EU) লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ঘোষণায় ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় ইউরোর (EUR) দরপতন অব্যাহত রয়েছে। টানা চতুর্থ দিনের মতো EURUSD কমেছে এবং দুই সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে। শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং বাজারে ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতা বাড়ায় ইউরোর ওপর চাপ আরও বেড়েছে।
একইভাবে, শুক্রবারের তীব্র পতনের পর GBPUSD টানা তৃতীয় দিনেও কমছে। যুক্তরাজ্যের রাজস্ব পরিস্থিতি নিয়ে অব্যাহত উদ্বেগ এবং ডলারের ব্যাপক শক্তির চাপে এই কারেন্সি পেয়ারটি রয়েছে, ফলে ব্রিটিশ পাউন্ড নিয়ে বাজারের মনোভাব নড়বড়ে।
অন্যদিকে, জাপানি ইয়েনের প্রচলিত নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে চাহিদা দরপতন সীমিত রাখায় USDJPY তিন সপ্তাহের সর্বোচ্চের কাছাকাছি স্থির রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-জাপান বাণিজ্য উত্তেজনা চলতে থাকা এবং ব্যাংক অব জাপানের (BoJ) সুদের হারের পূর্বাভাস নিয়ে মিশ্র ইঙ্গিত থাকা সত্ত্বেও এমনটি হয়েছে। যন্ত্রপাতির অর্ডার ও শিল্প উৎপাদনসহ জাপানের সাম্প্রতিক তথ্যের বেশিরভাগই ইতিবাচক এসেছে। ট্রেডাররা পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায় থাকায় এতে কারেন্সি পেয়ারটি বর্তমান সর্বোচ্চের কাছাকাছি স্থিতিশীল থেকেছে।



বাজারজুড়ে সতর্কতার ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে, যার চাপে অস্ট্রেলিয়ান, নিউজিল্যান্ড ও কানাডিয়ান ডলারের দর কমে। আরও প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়ে চীনের মিশ্র অবস্থান নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ে। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের দুর্বল অর্থনৈতিক সূচক এবং যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার চলমান বাণিজ্য উত্তেজনাও দরপতনে ভূমিকা রাখে।
নিউজিল্যান্ডে Business NZ PSI এবং Electronic Card Sales-এর সর্বশেষ তথ্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মিশ্র চিত্র তুলে ধরেছে, যা আত্মবিশ্বাস জোগাতে পারেনি। এদিকে, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী Albanese চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে বেইজিংয়ের কাছ থেকে এই উদ্যোগে ইতিবাচক সাড়া খুব কমই এসেছে, যা Aussie-কে ঘিরে বাজারের মনোভাব আরও দুর্বল করেছে।
দুই সপ্তাহের শক্তিশালী র্যালির পর অপরিশোধিত তেলের দাম পিছিয়ে আসায় কানাডিয়ান ডলার আরও প্রতিকূলতার মুখে পড়েছে। কানাডার প্রধান রপ্তানি পণ্যের একটি হলো তেল। তাই তেলের এই দরপতন CAD-এর পারফরম্যান্সে বড় চাপ সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে শুল্ক নিয়ে চলমান উদ্বেগের মধ্যে।
এর ফলে AUDUSD-এর টানা 3 সপ্তাহের ঊর্ধ্বমুখী ধারা থেমেছে, আর এক সপ্তাহের লোকসানের পর NZDUSD চাপের মধ্যে রয়েছে। অন্যদিকে, শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং কানাডার অর্থনীতি নিয়ে দুর্বল হয়ে পড়া মনোভাবের সহায়তায় USDCAD তার 2 সপ্তাহের নিম্নমুখী ধারা ভেঙে সোমবারের শুরুতে বেড়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা, ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা এবং OPEC+ সদস্যরা গোপনে উৎপাদন কমানোর লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে—এই বিষয়গুলো তেলের দামে টানা দুই সপ্তাহের ঊর্ধ্বগতিতে সহায়তা করেছিল। তা সত্ত্বেও সোমবারের শুরুর দিকে WTI ক্রুডের দাম কমেছে। প্রধান অর্থনীতিগুলোর ওপর Trump-এর উচ্চ শুল্ক বৈশ্বিক জ্বালানি চাহিদা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে, যার ফলে দামে এই পতন হয়েছে।
এর সঙ্গে চাপ আরও বেড়েছে, কারণ জল্পনা বাড়ছে যে চীন তাদের প্রণোদনা কার্যক্রমে বিরতি দিতে পারে—বিশেষ করে আসন্ন প্রবৃদ্ধি ও বাণিজ্য তথ্য শক্তিশালী হলে। এর সঙ্গে গত দুই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রুড অয়েলের মজুত অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়ে যাওয়ায়, অন্যদিকে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি সহায়ক থাকা সত্ত্বেও, দাম কমেছে।
21 দিনের SMA এবং এক মাস পুরোনো নিম্নমুখী ট্রেন্ডলাইনসহ একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বল্পমেয়াদি রেজিস্ট্যান্স জোন ভেঙে সোনা এখন $3,355-এর কাছাকাছি স্থির রয়েছে। এই দুটি স্তরই এখন $3,340-এর কাছাকাছি তাৎক্ষণিক সাপোর্ট হিসেবে কাজ করছে। সোনার দামের পার্শ্বমুখী চলাচল থেকে বোঝা যায়, এ সপ্তাহের U.S. মুদ্রাস্ফীতির তথ্য প্রকাশের আগে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতি নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তার মধ্যে বাজার সতর্ক রয়েছে।
এদিকে, ক্রিপ্টো বাজারে ইতিবাচক মনোভাব দরবৃদ্ধিতে সহায়তা করে চলেছে। Bitcoin (BTCUSD) সর্বকালের নতুন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, আর Ethereum (ETHUSD) 2 ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ স্তরে উঠেছে। ঊর্ধ্বমুখী গতিতে সমর্থন জুগিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত “Crypto Week”, যা 14 জুলাই শুরু হবে। এতে আইনপ্রণেতারা ক্রিপ্টো-সংক্রান্ত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে আলোচনা করবেন। এই পদক্ষেপ এবং প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে জোরালো কেনাকাটা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে এবং দামকে আরও ওপরে ঠেলে দিয়েছে।
সামনে সোমবারের অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে তেমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নেই। তবে মঙ্গলবারের গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন মূল্যস্ফীতির তথ্য ও চীনের GDP প্রকাশের আগে বাজারের মনোভাব সতর্ক থাকতে পারে। নতুন মার্কিন শুল্ক ঘোষণাকে ঘিরে বাণিজ্য উত্তেজনা এবং বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি বিনিয়োগকারীদের আস্থায় আরও চাপ ফেলতে পারে। এতে মার্কিন ডলার, জাপানি ইয়েন, সুইস ফ্রাঁ এবং সোনার মতো প্রচলিত নিরাপদ আশ্রয়স্থলগুলোর চাহিদা বাড়তে পারে, আর অপরিশোধিত তেলের দাম চাপে পড়তে পারে।
তবে, ভূরাজনৈতিক উদ্বেগ অপ্রত্যাশিতভাবে বাড়লে এবং একই সঙ্গে মার্কিন ডলারের দর কমলে অপরিশোধিত তেলের চলমান দুই সপ্তাহের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা সমর্থন পেতে পারে—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মজুতের তথ্যে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হ্রাস দেখা গেলে।
যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির প্রতিবেদনের দিকেই সবার নজর থাকবে। মূল্যস্ফীতি অতিরিক্ত বাড়ার লক্ষণ দেখা গেলে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমানো পিছিয়ে দেওয়ার আরও কারণ তৈরি হতে পারে এবং ট্রাম্পের সঙ্গে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে পারে। এতে মার্কিন ডলারের শক্তি আরও বাড়তে পারে, আর অপর প্রধান মুদ্রা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মুদ্রা এবং ক্রুড অয়েলের মতো পণ্যের মতো ঝুঁকিসংবেদনশীল অ্যাসেটের ওপর চাপ পড়তে পারে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!