Scan & Get our app!
Get our app!
Download our app and stay connected on the go.
Scan & Get our app!
Scan QR-code to download our app and stay connected on the go.

গত সপ্তাহের ইতিবাচক পারফরম্যান্সের পর বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে নতুন সপ্তাহের শুরুটা সতর্কভাবে হয়েছে। গত সপ্তাহে শক্তিশালী মার্কিন তথ্যের কারণে Federal Reserve (Fed) পরপর সুদের হার কমাতে পারে—এমন প্রত্যাশা বেড়েছিল। তবে সেই আশাবাদ এখন কমেছে। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বৈঠক এবং মার্কিন ইকুইটির রোলওভার সময়কালসহ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় ভরা সপ্তাহের আগে ট্রেডাররা সতর্ক হয়ে উঠেছেন। এই পরিস্থিতিতে, সপ্তাহান্তে চীন থেকে আসা খবর এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিশ্র মন্তব্য বাজারে তুলনামূলক কম মনোযোগ পেয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্য সূচক (CPI) ও উৎপাদক মূল্য সূচকের (PPI) পরিসংখ্যান প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হওয়া সত্ত্বেও, ননফার্ম পেরোলস (NFP)-এর সংশোধন রেকর্ড পরিমাণে নিচে নামানো এবং বেকারত্ব ভাতার দাবির সংখ্যা তীব্রভাবে বাড়ায় 17 সেপ্টেম্বরের ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির (FOMC) বৈঠকে নীতিগতভাবে সুদ কমানোর প্রত্যাশা বেড়েছে। একই সময়ে, ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের (UoM) ভোক্তা মনোভাব সূচক (CSI) দুর্বল হয়েছে, আর ন্যাশনাল ফেডারেশন অব ইন্ডিপেন্ডেন্ট বিজনেসের (NFIB) ক্ষুদ্র ব্যবসা সূচক কয়েক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের ইচ্ছার ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং ইউরোপকে আরও কঠোর অবস্থান নিতে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোকে রাশিয়ার তেল কেনা এড়াতে এবং তাদের পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে বলেছেন। তিনি ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ার জেরোম পাওয়েলকেও অদক্ষ বলে সমালোচনা করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারের ক্ষতি করার অভিযোগ তুলেছেন। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট রবিবার চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন, যার মূল বিষয় ছিল TikTok। বেইজিং জোর দিয়ে বলেছে, যেকোনো বিক্রির ক্ষেত্রে তাদের অনুমোদন নিতে হবে। পাশাপাশি, ByteDance-কে তাদের মূল অ্যালগরিদম ছেড়ে দিতে দেওয়ার কোনো ইঙ্গিতও তারা দেয়নি।
আগস্টে চীনের অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান বাজারের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। শিল্প উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি কমে 12 মাসের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমেছে। বছরওয়ারি প্রবৃদ্ধি হয়েছে 5.2 শতাংশ, যেখানে প্রত্যাশা ছিল 5.8 শতাংশ এবং আগের পরিসংখ্যান ছিল 5.7 শতাংশ। খুচরা বিক্রি বছরওয়ারি মাত্র 3.4 শতাংশ বেড়েছে, যা নভেম্বর 2024-এর পর সবচেয়ে ধীর গতি। প্রত্যাশা ছিল 3.8 শতাংশ, আর আগের পরিসংখ্যান ছিল 3.7 শতাংশ। জুলাইয়ে 5.2 শতাংশ থাকার পর বেকারত্বের হার বেড়ে 5.3 শতাংশ হয়েছে, যা ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত স্থায়ী সম্পদে বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধি পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ধীর ছিল। এদিকে, জুলাইয়ে 2.8 শতাংশ কমার পর আগস্টে বাড়ির দাম বছরওয়ারি 2.5 শতাংশ কমেছে। চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো (NBS) স্বীকার করেছে, বাইরের পরিবেশ এখনও “খুবই কঠিন”; অনিশ্চয়তা বাড়ছে এবং অনেক কোম্পানি নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।
যুক্তরাজ্যে, সেপ্টেম্বরে Rightmove House Price Index আগের মাসে 1.3 শতাংশ কমার পর মাসিক হিসাবে 0.4 শতাংশ বেড়েছে। তবে বছরওয়ারি হিসাবে সূচকটি 0.1 শতাংশ কমেছে। 2024 সালের জানুয়ারির পর এটি প্রথম বার্ষিক পতন, যেখানে এর আগে 0.3 শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছিল। Reuters জানিয়েছে, Zoopla-র পৃথক এক জরিপে দেখা গেছে, 2 সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চার সপ্তাহে গড় ভাড়ার দাম এক বছর আগের তুলনায় 2.4 শতাংশ বেশি ছিল—চার বছরের মধ্যে বার্ষিক বৃদ্ধির সবচেয়ে ধীর গতি। নিউজিল্যান্ডে, আগস্টে BusinessNZ Performance of Services Index (PSI) 47.5-এ নেমেছে, যা জুলাইয়ের তুলনায় 1.4 পয়েন্ট কম। সূচকটি টানা 18তম মাস সংকোচনের মধ্যে রয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদি গড় 52.9-এর চেয়ে অনেক নিচে।
ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি বাজারের মনোভাবের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের ওপর চাপ বাড়িয়েছেন। রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ তেল কেনার সমালোচনা করে ভারত ও চীনের ওপরও উচ্চ শুল্ক আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, যা বাজারের অস্বস্তি বাড়িয়েছে। দোহায় ইসরায়েলের বোমা হামলার বিষয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া নিয়েও বিশ্ববাজারে অস্থিরতা রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে, মার্কিন ডলার সূচক (DXY) চাপে ছিল, ফলে প্রধান মুদ্রা ও ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেটগুলো দর বাড়ানোর সুযোগ পায়। সোনার দাম বেড়েছে, অপরিশোধিত তেলের দাম পুনরুদ্ধার করেছে এবং ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলো টানা দুই দিনের দরপতনের ধারা ভেঙে সপ্তাহের শুরুতে কিছুটা শক্ত অবস্থানে ছিল। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের শেয়ারবাজারগুলোও সামান্য বেড়েছে। এদিকে, ফেড ও ব্যাংক অব জাপানের (BoJ) মুদ্রানীতির মধ্যে আরও বড় পার্থক্যের প্রত্যাশায় ট্রেডাররা থাকায়, তিন সপ্তাহের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার পর USDJPY পিছিয়ে এসেছে। ফেড আরও সুদের হার কমানোর ঘোষণা দেবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, BoJ এই সপ্তাহের বৈঠকে সুদের হার না বাড়ালেও তাদের কড়া অবস্থান বজায় রাখতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডলার দুর্বল এবং চাপের মধ্যে থাকায় EURUSD-এর দুই সপ্তাহের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বাড়ানো কঠিন হচ্ছে। ইউরোপে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও বাণিজ্যযুদ্ধ নিয়ে নতুন উদ্বেগ, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ECB) সুদের হার কমানো এবং নীতিনির্ধারকদের সতর্ক মন্তব্য—সবই এই পেয়ারের জন্য বাধা তৈরি করছে।
তবে, যুক্তরাজ্যের দুর্বল আবাসন-সংক্রান্ত তথ্য সত্ত্বেও GBPUSD ইউরোর তুলনায় কিছুটা শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। এই সপ্তাহের FOMC ও Bank of England (BoE)-এর বৈঠকের আগে পজিশন নেওয়া, পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের আসন্ন মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যান এবং যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বিক্রির তথ্য পাউন্ড স্টার্লিংকে সমর্থন জুগিয়েছে। Fed-এর নীতিগত অবস্থান BoE-এর তুলনায় বেশি সুদ কমানোর পক্ষে—এমন প্রত্যাশা থেকেও এই পেয়ার উপকৃত হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক ঝুঁকি এবং যুক্তরাজ্যের আর্থিক পরিকল্পনা নিয়ে সংশয় এখনও অনেক বেশি।



তিন সপ্তাহের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার পর USDJPY সামান্য কমেছে। এ সপ্তাহের FOMC ও BoJ বৈঠকের পর ফেড এবং ব্যাংক অব জাপানের (BoJ) মুদ্রানীতির মধ্যে ব্যবধান আরও বাড়তে পারে—এমন প্রত্যাশার পাশাপাশি নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে জাপানি ইয়েনের (JPY) চাহিদা বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-জাপান বাণিজ্য আলোচনা এবং আসন্ন জাপানি অর্থনৈতিক তথ্য মার্কিন তথ্যকে ছাড়িয়ে যেতে পারে—এমন আশাও এই জুটির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এতে ঝুঁকির সূচক হিসেবে বিবেচিত এই মুদ্রা জুটির দর আরও চাপে পড়ছে।
শুক্রবার দুই দিনের টানা দরবৃদ্ধির ধারা থেমে যাওয়ার পর AUDUSD ও NZDUSD আবার ঊর্ধ্বমুখী গতি ফিরে পেয়েছে। অন্যদিকে, USDCAD-এর ওপর চাপ থাকলেও জোরালো নিম্নমুখী গতি নেই। চীনের নতুন প্রণোদনা নিয়ে প্রত্যাশা অস্ট্রেলিয়ান ও নিউজিল্যান্ড ডলারের এই নতুন শক্তির পেছনে রয়েছে। দুর্বল তথ্য ও বাণিজ্যযুদ্ধের আশঙ্কা দেশটির অর্থনৈতিক রূপান্তরে চাপ তৈরি করছে। একই সময়ে, অপরিশোধিত তেলের টানা দুই দিনের দরবৃদ্ধি USDCAD বিক্রেতাদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। এর মধ্যে এ সপ্তাহে ফেডারেল রিজার্ভ (Fed) ও ব্যাংক অব কানাডার (BoC) নীতিনির্ধারণী বৈঠক রয়েছে।
এই সপ্তাহে প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বৈঠকের আগে বাজারে উদ্বেগ, পাশাপাশি রাশিয়া, ইসরায়েল ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সোনার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ এবং চীনের প্রণোদনা জ্বালানির চাহিদা বাড়াবে—এমন প্রত্যাশায় অপরিশোধিত তেলের দামও বাড়ছে, যদিও OPEC+ আরও উৎপাদন বাড়ানোর কথা বিবেচনা করছে।
বিটকয়েন (BTC) ও ইথেরিয়াম (ETH)—দুটিই টানা তিন সেশনের মধ্যে প্রথমবার দৈনিক লাভ করেছে; প্রতিটির দাম বেড়েছে প্রায় 1.0%। বাজারে মনে হয়েছে, সোনার পাশাপাশি ক্রিপ্টোকারেন্সিকেও বিকল্প নিরাপদ আশ্রয় সম্পদ হিসেবে বেছে নেওয়া হচ্ছে। নির্বাচিত কয়েনের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড (ETF) অনুমোদনের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (SEC) শিগগিরই দিতে পারে—এমন জল্পনাও বাজারকে সমর্থন জুগিয়েছে।
চীনের একাধিক অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশের পর অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) হাতে গোনা কয়েকটি কম গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশের সূচি রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্টক ফিউচারসের ত্রৈমাসিক রোলওভার মিলিয়ে বাজারে কার্যকলাপ সীমিত থাকতে পারে। ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটি (FOMC), ব্যাংক অব ইংল্যান্ড (BoE), ব্যাংক অব কানাডা (BoC) এবং ব্যাংক অব জাপানের (BoJ) বৈঠকসহ গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ইভেন্টের আগে ট্রেডাররা সতর্ক রয়েছেন। বুধবার ফেডারেল রিজার্ভের (Fed) কাছ থেকে প্রত্যাশিত ডোভিশ ঘোষণার আগে গত সপ্তাহে রিস্ক অ্যাসেটের অর্জনের কিছুটা সমন্বয়ও হতে পারে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!