Scan & Get our app!
Get our app!
Download our app and stay connected on the go.
Scan & Get our app!
Scan QR-code to download our app and stay connected on the go.

ক্রিসমাসের অপেক্ষায় ট্রেডারদের মধ্যে বাজারে লেনদেনের পরিমাণ কমে এসেছে, আর তারল্যও কম। বিস্ময় জাগানো Core PCE Price Index-এর পর 2025 সালে US Fed-এর পরিকল্পনা নিয়ে বাজারে মিশ্র মনোভাব রয়েছে। ভূরাজনৈতিক উদ্বেগ অনিশ্চয়তা আরও বাড়াচ্ছে। শুক্রবারের লোকসান পুষিয়ে নিতে মার্কিন ডলারে চাহিদা বেড়েছে। দুর্বল যুক্তরাজ্যের GDP-র প্রভাবে প্রাথমিক পুনরুদ্ধারের পর GBPUSD-এর প্রবণতা বদলেছে। অন্যদিকে, EURUSD পিছিয়েছে, আর ছুটির কারণে সংক্ষিপ্ত সপ্তাহের শুরুতে Gold ও Crude Oil-এর দাম সামান্য বেড়েছে।
শুক্রবারের US Core PCE Price Index 2025 সালে ফেডের সুদের হার কমানো নিয়ে সন্দেহ তৈরি করলেও, আগামী বছরে US কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পদক্ষেপ সম্পর্কে সামগ্রিক মনোভাব এখনও হকিশ—বিশেষ করে গত সপ্তাহের FOMC-এর পর। এর পাশাপাশি, US-এর ঋণসীমা বাড়ানো নিয়ে আশাবাদও বাড়ছে, যা US Dollar-কে শক্তিশালী করছে। তাছাড়া, মধ্যপ্রাচ্য ও চীন ঘিরে ভূরাজনৈতিক উদ্বেগ এবং বাণিজ্যযুদ্ধের আশঙ্কাও নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বিবেচিত Dollar-কে শক্তিশালী থাকতে সহায়তা করছে।
US ডলার পুনরুদ্ধার করলেও EURUSD-তে ঊর্ধ্বমুখী গতি নেই। Financial Times (FT)-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ECB) প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্ড আরও সুদের হার কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। উল্লেখ্য, জার্মানি ও ফ্রান্সের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ইউরোজোনের ভোক্তা আস্থার হতাশাজনক তথ্যও ইউরো পেয়ারটির ওপর নিম্নমুখী চাপ তৈরি করছে।
কারণ আরও শক্তিশালী মার্কিন ডলার হোক বা প্রত্যাশার চেয়ে দুর্বল Q3 UK GDP—QoQ 0.0%, যেখানে প্রত্যাশা ছিল 0.1% এবং আগের ছিল 0.4%—সব মিলিয়ে GBPUSD আগের দিনের সাত মাসের সর্বনিম্ন পর্যায় থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর পর আবার নেমে যাওয়াকে সমর্থন করছে। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে স্থিতাবস্থা বজায় রাখা মুদ্রানীতির মাধ্যমে ক্রেতাদের আস্থা অর্জনে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড (BoE) ব্যর্থ হয়েছে। এর সঙ্গে বেশিরভাগ দুর্বল ব্রিটিশ অর্থনৈতিক তথ্য যোগ হয়ে পাউন্ড বিক্রেতাদের আশাবাদী রেখেছে।
পাঁচ মাসের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আগের দিনের পতন কাটিয়ে USDJPY-তে কেনার আগ্রহ বেড়েছে। বিশেষ করে, ব্যাংক অব জাপানের (BoJ) পরবর্তী সুদের হার বৃদ্ধি এবং ইয়েনকে সমর্থন করতে বাজারে হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে মিশ্র মনোভাব রয়েছে। এ ছাড়া, এ সপ্তাহের BoJ মিনিটস ও জাপানের মূল্যস্ফীতির ডেটার আগে ইয়েন জোড়াটির দর সীমিত পরিসরে থাকা, এবং তুলনামূলক শক্তিশালী মার্কিন ডলারও দর বাড়াতে সহায়তা করছে।
চীনের আরও প্রণোদনা দেওয়ার খবর এবং নিউজিল্যান্ড থেকে ঝুঁকিবিরূপ কোনো খবর না আসার মধ্যে NZDUSD মার্কিন ডলারের শক্তিকে উপেক্ষা করছে। সম্প্রতি এসব নেতিবাচক খবর কিউই কারেন্সি পেয়ারটিকে নিচে নামিয়েছিল।
চীনকে ঘিরে আশাবাদ থাকলেও, চীন-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিরোধ এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা নিয়ে সামগ্রিক উদ্বেগের কারণে AUDUSD তেমন সমর্থন পাচ্ছে না। এর পাশাপাশি, মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ (Fed) ও রিজার্ভ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়ার (RBA) মধ্যে সম্ভাব্য মুদ্রানীতির পার্থক্যও এই কারেন্সি পেয়ারটির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
ক্রুড অয়েলের দাম পুনরুদ্ধার করলেও USDCAD টানা দুই দিনের পতন থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। কানাডার প্রধান রপ্তানি পণ্য ক্রুড অয়েলের দাম বাড়ার প্রভাব উপেক্ষা করেছে এই পেয়ার। কানাডায় রাজনৈতিক উদ্বেগ বাড়ছে, আর দেশটির সাম্প্রতিক দুর্বল ডেটার পর ব্যাংক অব কানাডা (BoC) আরও সুদের হার কমানোর বিষয়ে নিশ্চিত রয়েছে।



ভূরাজনৈতিক উদ্বেগ, বছরশেষের কনসোলিডেশন এবং তারল্য কম থাকা ট্রেডিং সেশনের কারণে পণ্যবাজারে আগের লোকসান পুষিয়ে নেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, বিশেষ করে অপরিশোধিত তেলে। চীনের প্রণোদনার কারণে সোনার বাড়তি সুবিধা রয়েছে, ফলে টানা তিন দিন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
গত সপ্তাহে বড় ধরনের দরপতনের পর Bitcoin (BTCUSD) ও Ethereum (ETHUSD) ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ক্রিপ্টো ট্রেডাররা খাতটি নিয়ে আশাবাদ নতুন করে মূল্যায়ন করছেন। উল্লেখ্য, বছরের শেষের দিকের মূল্য একত্রিত হওয়ার প্রবণতা, শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং ফেডের হকিশ অবস্থান—সব মিলিয়ে গত সপ্তাহে এই পেয়ারগুলোর দরপতন ঘটেছে।
সামনে, ট্রেডারদের নজর থাকবে কানাডার মাসিক GDP এবং BoC-এর আলোচনার সারসংক্ষেপের দিকে। তবে বাজারের মনোভাব গঠনে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো ফেড ন্যাশনাল অ্যাক্টিভিটি ইনডেক্স এবং ডিসেম্বরের ভোক্তা আস্থা গুরুত্বপূর্ণ হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ডলার শক্তিশালী থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে বছরশেষের কনসোলিডেশনের মধ্যে অপ্রত্যাশিত কোনো তথ্য সংশোধনমূলক বাউন্সের সূত্রপাত করতে পারে। সোনা ও ক্রুড অয়েলের দর আরও পুনরুদ্ধার হতে পারে, অন্যদিকে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও শেয়ারবাজারে আগের লোকসানের পর কনসোলিডেশন চলতে পারে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!