Scan & Get our app!
Get our app!
Download our app and stay connected on the go.
Scan & Get our app!
Scan QR-code to download our app and stay connected on the go.

বুধবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন শুল্ক আরোপ করে বাজারে চাপ সৃষ্টি করেন—তামার ওপর 50% এবং ব্রাজিল ও শ্রীলঙ্কা থেকে আমদানির ওপর 30%। এতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে যে তিনি বিশ্ব অর্থনীতিতে বিঘ্ন ঘটাতে পারেন। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকারদের ওপর আরও চাপ পড়েছে; তাঁরা ইতিমধ্যেই মূল্যস্ফীতি এবং শুল্কজনিত কারণে প্রবৃদ্ধি ধীর হওয়ার আশঙ্কা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। তবে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, বাণিজ্য চুক্তি হলে এসব শুল্ক কমানো হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে, FOMC-এর বৈঠকের কার্যবিবরণীতে দেখা গেছে, পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা নিয়ে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। সুদের হার কমানোর সম্ভাবনাই বেশি হলেও, কেউ কেউ মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করেছেন এবং একেবারেই সুদের হার না কমানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। ট্রাম্প 3% সুদের হার কমানোর জন্য চাপ দিচ্ছেন এবং ফেড চেয়ার জেরোম পাওয়েলকে সরিয়ে দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন, যা চাপ আরও বাড়িয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে EU ও জাপান—উভয়ের বাণিজ্যিক উত্তেজনা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র EU-এর সঙ্গে সংশোধিত বাণিজ্য চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে, কিন্তু গাড়ি বাণিজ্য নিয়ে জোটটির দাবির কারণে আলোচনা থমকে গেছে। ট্রাম্পের জাপানি পণ্যে 25% শুল্ক দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি 1.1% কমিয়ে দিতে পারে—এমন উদ্বেগও বাড়ছে।
অন্যদিকে, চীন কর্মসংস্থানে নতুন সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স প্রয়োজন হলে পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা ব্যবহারে সম্মত হয়েছে। ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী প্রতিহত করেছে; কেউ আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
ব্যস্ত দিন হলেও বাজারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি। শেয়ারের দাম বেড়েছে, মার্কিন ডলার দুর্বল হয়েছে এবং সোনার দাম ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তেলের দাম স্থিতিশীল ছিল। EURUSD-এর মতো কারেন্সি পেয়ার চাপে থাকলেও GBPUSD বেড়েছে। তিন সপ্তাহের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে USDJPY পিছিয়ে এসেছে, তবে নিম্নমুখী গতি জোরালো ছিল না। ক্রিপ্টোকারেন্সি ও বন্ডের ইল্ডে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। জাপানি বন্ডের ইল্ড বেড়েছে, আর মার্কিন ও জার্মান বন্ডের ইল্ড কমেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা থমকে যাওয়ায় জাপানের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগার আশঙ্কা বেড়েছে। হোয়াইট হাউস তাদের দাবিতে অনড়, অন্যদিকে জাপান গাড়ির ওপর শুল্ক আরোপে আপত্তি জানাচ্ছে—ফলে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। 1 আগস্টের সময়সীমার আগে দুই পক্ষই এখনও সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। এদিকে, জাপানের উৎপাদক মূল্য (PPI) এবং প্রকৃত মজুরি বৃদ্ধির দুর্বল তথ্য Bank of Japan-এর সুদের হার বাড়ানোর পরিকল্পনাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে, যার ফলে জাপানের বন্ডের ইল্ড বেড়েছে। তা সত্ত্বেও, নিরাপদ আশ্রয় মুদ্রা হিসেবে ইয়েনের অবস্থান এবং বিশ্বের বাকি অংশের তুলনায় জাপানের মুদ্রানীতির ভিন্নতা USDJPY-এর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে—বিশেষ করে US Dollar দুর্বল হওয়ায়।
বৃহস্পতিবার EURUSD ও GBPUSD—দুটিই স্থিতিশীল থাকতে পেরেছে, তবে কোনোটিতেই শক্তিশালী বুলিশ গতি দেখা যায়নি। EU-US বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তা, UK-এর আর্থিক পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ—সব মিলিয়ে দুই মুদ্রার ওপরই চাপ অব্যাহত রয়েছে।
ইউরোজোনে রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ECB) কর্মকর্তাদের সতর্ক মন্তব্য EURUSD-কে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে দিচ্ছে না। একইভাবে, যুক্তরাজ্যের অর্থনীতির শক্তি নিয়ে সন্দেহ এবং চলমান রাজনৈতিক টানাপোড়েন GBPUSD-এর অর্থবহ পুনরুদ্ধারের পথে বাধা সৃষ্টি করছে।
সামগ্রিকভাবে, সামষ্টিক অর্থনৈতিক উদ্বেগ অব্যাহত থাকায় উভয় কারেন্সি পেয়ারই চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। ফলে নিকট ভবিষ্যতে টেকসই উত্থানের সম্ভাবনা কম।
মার্কিন ডলারের দরপতন, যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য আলোচনায় অগ্রগতি এবং চীনের নতুন প্রণোদনা ঘোষণার সমর্থনে AUDUSD ও NZDUSD সামান্য বেড়েছে।
তবে, দুর্বল মার্কিন ডলার এবং কানাডার প্রধান রপ্তানি পণ্য তেলের দাম বাড়লেও USDCAD মিশ্রভাবে ট্রেড করছে। যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে নতুন কোনো তথ্য না আসায় সমঝোতার বিষয়ে আশাবাদ কমছে। অন্যদিকে, শুক্রবারের কানাডার কর্মসংস্থান প্রতিবেদন প্রকাশের আগে ব্যাংক অব কানাডার (BoC) নীতিমালা কঠোর হওয়ার যে প্রত্যাশা আগে ছিল, তা কমে আসছে।



দুর্বল মার্কিন ডলার, বাজারের বাড়তি অনিশ্চয়তা এবং Gold ETF-এর চাহিদা বৃদ্ধির সমর্থনে ছয় মাসের সাপোর্ট লাইন থেকে সোনার দাম ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আগের দরপতন পুষিয়ে নিলেও, সোনা শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী গতি পেতে হিমশিম খাচ্ছে। কারণ মার্কিন ডলারের দরপতনের পক্ষে থাকা ট্রেডাররা এখনও আত্মবিশ্বাসী নন, আর বিশ্বের রিজার্ভ কারেন্সি হিসেবে ডলারের অবস্থান সরিয়ে দেওয়ার বৈশ্বিক প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।
এদিকে, টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের অপ্রত্যাশিত মজুত বৃদ্ধির খবর এবং উৎপাদন বাড়ানোর OPEC+-এর পরিকল্পনা সত্ত্বেও Crude Oil-এর দর খুব একটা বিচলিত হয়নি। OPEC-এর কিছু সদস্য নীরবে উৎপাদন বাড়ানো এড়িয়ে যাচ্ছেন। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং চীনের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার নিয়ে বাড়তে থাকা আশাবাদ টানা চতুর্থ দিনের মতো তেলের দর ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করছে।
Bitcoin (BTCUSD) সামান্য দরপতনের আগে নতুন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, আর Ethereum (ETHUSD) টানা তিন দিন লাভ করেছে। প্রযুক্তিগত ব্রেকআউট এবং 14 জুলাই শুরু হতে যাওয়া “Crypto Week”-এর আগে প্রাতিষ্ঠানিক ক্রয় বাড়ার প্রত্যাশা আশাবাদ জোগাচ্ছে। এ ছাড়া, ETF আবেদনকারীদের প্রতি মার্কিন SEC-এর সাম্প্রতিক সমর্থন ক্রিপ্টো বাজারের মনোভাবকে চাঙা করছে—যদিও মার্কিন ডলার দুর্বল রয়েছে এবং সামগ্রিক বাজারের গতিপ্রকৃতি মন্থর।
জার্মানির মূল্যস্ফীতির তথ্য, যুক্তরাষ্ট্রের বেকারত্ব ভাতার দাবির সংখ্যা এবং মধ্যম পর্যায়ের ECB ও Fed কর্মকর্তাদের বক্তব্য বৃহস্পতিবারের অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে থাকলেও, মূল নজর থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ঘোষণা ও ভূরাজনৈতিক খবরের দিকে। ট্রাম্প যদি উচ্চ শুল্ক ঘোষণা করেন এবং তা কার্যকর করেন, তাহলে মার্কিন ডলারের আরও দরপতন হতে পারে। এতে Gold, Yen (JPY) এবং Swiss Franc (CHF) শক্তিশালী থাকতে পারে। তবে, কোনো ইতিবাচক ফলাফল এবং আশাব্যঞ্জক মার্কিন তথ্য দুই সপ্তাহের নিম্নমুখী প্রবণতার পর সপ্তাহটি ইতিবাচকভাবে শেষ করতে মার্কিন ডলারকে সহায়তা করতে পারে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র-জাপান বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অচলাবস্থা এবং মিশ্র প্রযুক্তিগত সংকেতের মধ্যেও বিশ্বজুড়ে সোনা কেনা বাড়তে থাকায় USDJPY ও Gold থাকবে বিশেষ নজরে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!