Scan & Get our app!
Get our app!
Download our app and stay connected on the go.
Scan & Get our app!
Scan QR-code to download our app and stay connected on the go.

সোমবার চীনকে ঘিরে তৈরি আশাবাদের সঙ্গে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও বাণিজ্যযুদ্ধের আশঙ্কার টানাপোড়েনের মধ্যে বাজারের মনোভাব কিছুটা ইতিবাচক রয়েছে।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে চীনের বড় ধরনের প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণায় আগের দিন বাজারের মনোভাব শক্তিশালী হয়। এর ফলে অস্ট্রেলীয় ও নিউজিল্যান্ডের মুদ্রা এবং কমোডিটিগুলো সপ্তাহের শুরুটা ইতিবাচকভাবে করতে পেরেছে। তবে মার্কিন ডলার পিছু হটেনি; বরং শুক্রবারের দরবৃদ্ধি ধরে রেখেছে। প্রাথমিক অর্থনৈতিক ইঙ্গিতগুলো ফেডের আরও সুদের হার কমানোর সম্ভাবনাকে চ্যালেঞ্জ করছে।
সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী GDP, মূল্যস্ফীতি ও কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত তথ্য মার্কিন ডলারকে চাঙা করেছে। চীনের ইতিবাচক মনোভাব সত্ত্বেও এতে শুক্রবারের দরবৃদ্ধি আরও প্রসারিত হয়েছে। তবে Atlanta Fed-এর GDPNow মডেলে Q4-এর শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস 3.3%-এ অপরিবর্তিত ছিল। এছাড়া, New York Fed-এর ভোক্তা জরিপে এক বছর, তিন বছর ও পাঁচ বছর মেয়াদে মূল্যস্ফীতির প্রত্যাশা সামান্য বেড়েছে। এদিকে, US Employment Trends-এর নভেম্বরের পাঠ ছিল 109.55, যা আগের 107.66 থেকে বেড়েছে।
এদিকে, চীনের নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় তাইওয়ান সামরিক সতর্কতা জারি করেছে। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, IT শেয়ারে দরপতন এবং বাণিজ্যযুদ্ধের উদ্বেগ যোগ হয়ে বাজারের মনোভাব দুর্বল করেছে এবং মার্কিন ডলারকে সমর্থন জুগিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে, দুই দিনের দরবৃদ্ধির পর US Dollar Index (DXY) বিরতি নিয়েছে। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মুদ্রা, প্রধান মুদ্রা এবং কমোডিটির দামে মিশ্র প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
ইউরোজোনে ডিসেম্বরের Sentix বিনিয়োগকারী আস্থা সূচক 13 মাসের সর্বনিম্নে নেমেছে। আগের -13.5-এর তুলনায় সূচকটি -17.5-এ দাঁড়িয়েছে, যা EURUSD পেয়ারের পুনরুদ্ধারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের (BoE) ডেপুটি গভর্নর ডেভ র্যামসডেন বলেছেন, যুক্তরাজ্যের আর্থিক বাজারের ঝুঁকি তাদের (BoE) পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করা উচিত এবং উপযুক্ত সময়ে ব্যালান্স শিট ব্যবহার করা উচিত। এতে ব্রিটেনের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সংশয় বাড়ছে এবং GBPUSD-তে ক্রেতাদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে—বিশেষ করে BoE যখন ক্রেতাদের আশ্বস্ত করতে পারছে না।
এক সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর USDJPY সামান্য কমেছে। এতে সোমবারের উল্লেখযোগ্য উত্থানের পর দর স্থিতিশীল হয়েছে—যা এক মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় দৈনিক উত্থান। জাপানের অর্থনীতিমন্ত্রী রিওসেই আকাজাওয়ার ইতিবাচক মন্তব্যে ইয়েনের এই পেয়ারটি সমর্থন পেয়েছে। তিনি বলেন, জাপান পুরোপুরি মূল্যহ্রাসের পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে না এলেও মজুরি বৃদ্ধি ও মূল্যবৃদ্ধির একটি ইতিবাচক চক্র চলছে। এ ছাড়া US Dollar ও ইয়েল্ডের দরপতনও এই গতিকে সমর্থন করেছে।



এর আগে, প্রত্যাশা অনুযায়ী অস্ট্রেলিয়ার রিজার্ভ ব্যাংক (RBA) মুদ্রানীতি অপরিবর্তিত রাখে। তবে 2025 সালে সম্ভাব্য সুদের হার কমানো এবং অস্ট্রেলিয়ার অর্থনৈতিক পূর্বাভাস দুর্বল হওয়ার আশঙ্কায় AUDUSD-কে চাঙা করতে পারেনি। অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার চীনের চলমান চ্যালেঞ্জও এ আশঙ্কার অন্যতম কারণ।
চীনের সমস্যার চাপ NZDUSD-এর ওপরও পড়ছে। অন্যদিকে, তেলের দামে পতন—যা কানাডার প্রধান রপ্তানি পণ্য—এবং কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আসন্ন বাণিজ্যযুদ্ধের আশঙ্কায় USDCAD শক্তিশালী রয়েছে।
বাজারের অনিশ্চয়তা এবং ছয় মাসের বিরতির পর চীনের পিপলস ব্যাংকের বাড়তি চাহিদার কারণে টানা তৃতীয় দিন সোনার দাম শক্তিশালী রয়েছে। এদিকে, চাহিদা কমে যাওয়া এবং OPEC+-এর বাইরের দেশগুলোতে উৎপাদন বাড়ার আশঙ্কায় জ্বালানি ক্রেতাদের মনোভাব দুর্বল হওয়ায় অপরিশোধিত তেলের দাম আগের দিনের বৃদ্ধি হারিয়েছে।
এই সপ্তাহের গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের আগে সংবাদপ্রবাহ শান্ত এবং বাজারে সতর্ক মনোভাব থাকায় ক্রিপ্টো বাজার সাম্প্রতিক দরবৃদ্ধির পর স্থিতিশীল হচ্ছে। তবে চীন তার রিজার্ভে Bitcoin যুক্ত করতে পারে—এমন উদ্বেগ এবং ট্রাম্পের নেতৃত্বে ক্রিপ্টো শিল্প নিয়ে আশাবাদ Bitcoin (BTCUSD) ও Ethereum (ETHUSD)-এর দামকে সমর্থন জোগাচ্ছে।
সামনে, জার্মানির নভেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্যের পাশাপাশি তৃতীয় প্রান্তিকের মার্কিন অকৃষি উৎপাদনশীলতা ও ইউনিট শ্রম ব্যয়ের তথ্য ইন্ট্রাডে ট্রেডারদের নজর কাড়বে। জার্মানি ও ইউরোজোনের সাম্প্রতিক দুর্বল তথ্য EURUSD-কে চাপে রেখেছে, অন্যদিকে শক্তিশালী মার্কিন অর্থনৈতিক সংকেত ডলারকে সমর্থন দিয়েছে। ফলে, জার্মানি থেকে ইতিবাচক চমক না এলে EURUSD-তে নিম্নমুখী চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।
সম্ভাব্য USD র্যালি সত্ত্বেও সোনার দর শক্তিশালী থাকতে পারে। অন্যদিকে, ব্যাংক অব জাপান এবং ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতির পার্থক্য নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে USDJPY-এর দরপতন থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লিখিত বিষয়গুলোর পাশাপাশি, চীনের প্রেসিডেন্ট Xi Jinping-এর সঙ্গে প্রধান আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংস্থাগুলোর প্রধানদের বৈঠকও গুরুত্বপূর্ণ হবে। কারণ, অর্থনৈতিক রূপান্তরকে জোরদার করতে বেইজিংয়ের সাম্প্রতিক উদ্যোগ কমোডিটি এবং অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মুদ্রাগুলোর পক্ষে গেছে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!