Scan & Get our app!
Get our app!
Download our app and stay connected on the go.
Scan & Get our app!
Scan QR-code to download our app and stay connected on the go.

মঙ্গলবার বাজারের মনোভাব সতর্ক ছিল। ট্রেডারদের নজর ছিল শুল্ক নিয়ে উদ্বেগের দিকে, পাশাপাশি FTC, SEC ও ফেডের মতো মার্কিন সংস্থার ওপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রভাব নিয়েও আলোচনা চলেছে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধবিরতি আলোচনা এগোলেও এবং FOMC-এর বৈঠক সামনে থাকলেও, এসব কারণে বাজারের আস্থা বাড়েনি।
চীন থেকে ইতিবাচক খবর এবং Fed-এর সুদের হার বৃদ্ধি পিছিয়ে দেওয়ার আশার কারণে বাজারের মনোভাবে পরিবর্তন এসেছে। ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতির সম্ভাব্য অগ্রগতি এবং BoJ-এর নিষ্ক্রিয়তার কারণেও ট্রেডাররা সতর্ক আশাবাদী ছিলেন, যা বাজার স্থিতিশীল করতে সাহায্য করেছে।
The Wall Street Journal জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র দুইটি দেশকে লক্ষ্য করে নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছে, যার মধ্যে VAT-ও থাকতে পারে। এদিকে, বৈশ্বিক রেটিং সংস্থা Fitch-এর অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে সতর্ক করা হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ব—উভয়ের প্রবৃদ্ধি মন্থর করতে পারে।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের হাতে FTC-র দুই ডেমোক্র্যাটিক কমিশনারের বরখাস্ত হওয়ায় স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এতে Fed কর্মকর্তাদের সম্ভাব্য বরখাস্তের আশঙ্কাও জোরালো হয়েছে। এদিকে, ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা 30 দিনের জন্য বিরতি দেওয়ার পক্ষে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের অবস্থান এবং জার্মানির আশাব্যঞ্জক রাজস্ব ব্যয়ের পরিকল্পনা বুধবারের ইউরোপীয় সেশন শুরুর আগে সতর্ক আশাবাদ বজায় রাখতে সহায়তা করেছে।
আগের দিন যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন ও শিল্প উৎপাদনের শক্তিশালী তথ্যও ডলারকে চাঙ্গা করতে পারেনি। তবে FOMC বৈঠকের আগে দর স্থিতিশীল হওয়ায় US Dollar Index (DXY) টানা তিন দিনের পতন থামিয়ে পাঁচ মাসের সর্বনিম্ন স্তরে অবস্থান করেছে। ডলারের দুর্বলতা ও বাজারের অনিশ্চয়তার মধ্যে গোল্ড নতুন রেকর্ড উচ্চতায় উঠে প্রায় $3,040 ছুঁয়েছে। এদিকে, EURUSD ও GBPUSD অক্টোবর ও নভেম্বরের পর থেকে সর্বোচ্চ স্তর থেকে পিছিয়ে এসেছে।
অন্যদিকে, BoJ-এর সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা কমে আসা এবং জাপানের দুর্বল অর্থনৈতিক তথ্যের মধ্যে USDJPY টানা চার দিনের দরবৃদ্ধি ধরে রেখে দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। AUDUSD ও NZDUSD স্থির ছিল এবং চীনের প্রণোদনার সম্ভাবনাকে উপেক্ষা করেছে। এদিকে, দুই সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায় থেকে মঙ্গলবারের ঘুরে দাঁড়ানোর ধারা অব্যাহত রেখে USDCAD বেড়েছে। দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ঘুরে আসার পর অপরিশোধিত তেলের দামে চাপ তৈরি হয়েছে। ক্রিপ্টোকারেন্সির দরগতিবিধি ছিল অনিশ্চিত, আর শেয়ারবাজার আগের লোকসানের কিছুটা পুষিয়ে নিয়েছে।
জার্মানির রাজস্ব ব্যয় নিয়ে আশাবাদ মন্দার আশঙ্কা কমিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বল তথ্য ও প্রবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ EURUSD-কে পাঁচ মাসের সর্বোচ্চে তুলেছে। তবে FOMC বৈঠকের আগে মুনাফা তুলে নেওয়ায় বুধবারের শুরুতে এই কারেন্সি জুটি কিছুটা নেমে যায়। সামনে EU-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য উত্তেজনা এবং ECB-র সতর্ক অবস্থানও ইউরোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
এদিকে, Financial Times জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের অর্থমন্ত্রী Rachel Reeves আসন্ন Spring Statement-এ সরকারি ব্যয় আরও কমানোর পরিকল্পনা করছেন। এতে ব্রিটেনের অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ আবার বেড়েছে। Fed-এর বৈঠকের আগে বাজার স্থিতিশীল হওয়ার সঙ্গে মিলিয়ে এই খবর GBPUSD-এর ঊর্ধ্বমুখী গতি থামিয়ে দিয়েছে—যে পর্যায়ে এটি নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ ছিল।
বাজারের প্রত্যাশার সঙ্গে মিল রেখে Bank of Japan (BoJ) তার মুদ্রানীতি অপরিবর্তিত রেখেছে। তবে BoJ-এর হতাশাজনক বিবৃতি এবং জাপানের যন্ত্রপাতির অর্ডার, রপ্তানি, আমদানি ও ব্যবসায়িক আস্থার দুর্বল তথ্য USDJPY-কে দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যায়। এ নিয়ে টানা চতুর্থ দিন পেয়ারটির দর বেড়েছে। ইয়েনকে সমর্থন দিতে জাপানের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ নিয়ে চলমান আলোচনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য উত্তেজনাও পেয়ারটিকে আরও সমর্থন দিয়েছে। BoJ গভর্নর উয়েদার বক্তব্য, FOMC-এর ঘোষণা এবং ফেড চেয়ার পাওয়েলের বক্তব্যের আগে বাজারের আশাবাদও USDJPY-কে শক্তিশালী করতে সাহায্য করেছে।



চীন থেকে ইতিবাচক প্রণোদনার খবর এবং ইউক্রেন নিয়ে উদ্বেগ কমলেও বুধবারের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ান, নিউজিল্যান্ড ও কানাডিয়ান ডলারের দরপতন অব্যাহত ছিল। এর পেছনে নিউজিল্যান্ডের হতাশাজনক চলতি হিসাবের ঘাটতি ও দুর্বল ভোক্তা আস্থার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার রিজার্ভ ব্যাংকের (RBA) নরম নীতির দৃষ্টিভঙ্গি কাজ করে থাকতে পারে। কানাডার মূল্যস্ফীতির ডেটা শক্তিশালী হওয়া সত্ত্বেও, অপরিশোধিত তেলের দাম কমায় USDCAD-এ বিক্রেতারা কিছুটা পিছিয়ে আসে। মজুত বাড়া এবং সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কমে যাওয়ায় তেলের দাম কমেছে, যা কানাডার প্রধান রপ্তানি পণ্যের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।
বাজারের প্রবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ, শুল্কসংক্রান্ত সমস্যা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো নিয়ে উদ্বেগের কারণে বুধবারের ইউরোপীয় সেশন শুরুর আগে সোনার দাম বেড়ে $3,043-এর কাছাকাছি নতুন সর্বকালের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। মার্কিন ডলারের দুর্বলতা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা কেনা সোনার আকর্ষণ আরও বাড়িয়েছে।
এদিকে, সাপ্তাহিক শিল্প জরিপ অনুযায়ী ক্রুড অয়েলের মজুত প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বেড়েছে। সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কমে আসার পাশাপাশি এই তথ্যও তেলের দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। ফলে WTI ক্রুডের দাম দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে আরও পিছিয়ে মাসের শুরুর দিকের সর্বনিম্ন পর্যায়ের দিকে যাচ্ছে।
ক্রিপ্টো ট্রেডারদের সহায়তায় ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগ সত্ত্বেও, অন-চেইন ও ফিউচার্স ট্রেডিংয়ে কম লিকুইডিটি এবং বড় ক্রিপ্টো হোল্ডারদের বিক্রির চাপ Bitcoin (BTCUSD) ও Ethereum (ETHUSD)-এর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ফেডের বৈঠকের আগের উদ্বেগও বাজারের নিষ্ক্রিয়তা বাড়াচ্ছে। তবে বুধবারের শুরুর দিকে শান্ত বাজারে আগের লোকসান কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করতে গিয়ে Bitcoin ও Ethereum—দুটিরই দাম সামান্য বেড়েছে।
BoJ-কে ঘিরে তৈরি অস্থিরতার পর ট্রেডাররা ফেডের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর দিচ্ছেন। অধিকাংশেরই প্রত্যাশা, বর্তমান মুদ্রানীতিতে কোনো পরিবর্তন হবে না। সাম্প্রতিক US তথ্য-উপাত্তের দুর্বলতা সম্ভাব্য মন্দা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে, যা ফেডের hawkish অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে। FOMC বিবৃতি বা ফেড চেয়ার পাওয়েলের বক্তব্যে তা নিশ্চিত হলে, US Dollar-এর ওপর নিম্নমুখী চাপ আরও বাড়তে পারে এবং Gold আরও শক্তিশালী হতে পারে। EURUSD, GBPUSD ও USDJPY-তে সাম্প্রতিক দরপতন অব্যাহত থাকতে পারে। অন্যদিকে, বাজারের মনোভাব উন্নত হলে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মুদ্রাগুলো ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!