Scan & Get our app!
Get our app!
Download our app and stay connected on the go.
Scan & Get our app!
Scan QR-code to download our app and stay connected on the go.

বাণিজ্য নিয়ে আশাবাদ কমে যাওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা এবং মোটের ওপর নেতিবাচক মনোভাব রয়েছে। এর একটি কারণ, মধ্যপ্রাচ্য সফরের সময় ট্রাম্পের গণমাধ্যমে উপস্থিতি কমে যাওয়া। এ সপ্তাহের EU-UK সম্মেলন, যুক্তরাষ্ট্র-জাপান বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অচলাবস্থা এবং মার্কিন বাণিজ্যনীতি নিয়ে EU-এর উদ্বেগ সতর্ক মনোভাবকে আরও জোরদার করছে। মূল্যস্ফীতির ইঙ্গিত বাদে সাম্প্রতিক হতাশাজনক তথ্য এবং Moody’s-এর সাম্প্রতিক মার্কিন ক্রেডিট রেটিং অবনমন—এসবের পাশাপাশি Fed তাদের কর্মীর 10% ছাঁটাই করতে পারে—এমন জল্পনাও মার্কিন ডলারের ওপর চাপ তৈরি করছে।
অন্য খবরে, জাপান যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য-সংক্রান্ত দাবির প্রকাশ্য সমালোচনা করেছে এবং জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র গাড়ির ওপর শুল্ক না সরালে তারা পিছু হটবে না। জাপানের প্রধানমন্ত্রী টোকিওর আর্থিক বাজারের চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাব্য সুদের হার বৃদ্ধি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এদিকে, চীনের খুচরা বিক্রির প্রবৃদ্ধি কমেছে, তবে শিল্প উৎপাদন প্রত্যাশা ছাড়িয়েছে। ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে আগ্রহ দেখিয়েছেন। অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে তেমন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা না থাকলেও, ট্রাম্পের করছাড় বিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়া এবং চীনা কর্মকর্তাদের ইতিবাচক বক্তব্য বাজারের উদ্বেগ কিছুটা কমাতে সাহায্য করেছে।
এই পরিস্থিতিতে, টানা তিন সপ্তাহের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার পর US Dollar Index (DXY) চাপে রয়েছে এবং সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বমুখী গতি কমে এসেছে। এতে সোনা কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পেরেছে। অন্যদিকে, US-Iran চুক্তির আশা এবং OPEC+ থেকে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনায় অপরিশোধিত তেলের দাম নিচে রয়েছে। চার সপ্তাহের দরপতনের পর EURUSD চাপে রয়েছে, আর GBPUSD সামান্য বেড়েছে। এদিকে, অস্থির বাজারে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছেন এবং Bank of Japan-এর কঠোর অবস্থানের প্রত্যাশায় USDJPY এক সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ এবং Australia, New Zealand ও Canada থেকে আসা মিশ্র তথ্যের কারণে দুর্বল US Dollar থেকেও AUDUSD, NZDUSD ও USDCAD তেমন সুবিধা করতে পারছে না। রবিবারের জোরালো উত্থানের পর ক্রিপ্টোকারেন্সির দাম কমেছে, শেয়ারবাজার কিছুটা নিচে নেমেছে এবং বন্ডের ইল্ড আবার বেড়েছে।
সোমবার ক্রেডিট রেটিং কমানো এবং বাণিজ্য আলোচনা থেকে ইতিবাচক কোনো অগ্রগতি না আসার পর মার্কিন ডলারের দর কিছুটা কমেছে। এতে EURUSD ও GBPUSD সাপ্তাহিক লোকসান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছে। ইইউ-যুক্তরাজ্য বাণিজ্য সম্মেলনের আগে এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের আজকের সম্ভাব্য ঘোষণার আগে এই পুনরুদ্ধারের গতি বেড়েছে। ঘোষণাগুলোতে “Brexit reset” চুক্তির কথা থাকতে পারে, যার লক্ষ্য যুক্তরাজ্যকে ইইউর আরও কাছাকাছি আনা এবং তরুণদের জন্য আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা।
ECB প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্ড EURUSD-এর দর ফিরে আসাকে যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে বাজারের সন্দেহের ইঙ্গিত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, ECB-এর অন্যান্য কর্মকর্তারা আরও সুদের হার কমানো নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন, যা USD-এর বিপরীতে ইউরোকে আরও শক্তিশালী করেছে। তবে যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তি থাকা সত্ত্বেও, ইউরোপের অর্থনৈতিক রূপান্তর নিয়ে উদ্বেগের কারণে EURUSD-তে ঊর্ধ্বমুখী অবস্থানে থাকা ট্রেডারদের সামনে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
এদিকে, GBPUSD-কে আরও শক্তিশালী মনে হচ্ছে। যুক্তরাজ্য যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সঙ্গে অনুকূল বাণিজ্যচুক্তি করেছে এবং ইউরোপসহ অন্যান্য বড় অর্থনীতিতে আস্থা ফিরে পাওয়ার পথে রয়েছে। তবে যুক্তরাজ্যের মিশ্র অর্থনৈতিক তথ্য এবং অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে BoE-এর অনিশ্চয়তা পাউন্ডের ক্রেতাদের চাপে রাখছে।
বাজারের নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ঝোঁক, দুর্বল মার্কিন ডলার এবং BoJ-এর সম্ভাব্য কঠোর অবস্থানের প্রত্যাশা—সব মিলিয়ে USDJPY পেয়ারে চাপ তৈরি করায় টানা পঞ্চম দিনের মতো দর কমেছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইশিবা বলেছেন, দেশটির আর্থিক পরিস্থিতি গ্রিসের চেয়েও খারাপ। অন্যদিকে, অর্থমন্ত্রী কাতো আশ্বস্ত করেছেন যে ঋণ ইস্যুর মাধ্যমে জাপান এখনও তহবিল সংগ্রহ করতে পারে। BoJ গভর্নর উচিদাও জানিয়েছেন, অর্থনীতি ও দাম প্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নতি করলে সুদের হার বাড়তেই থাকবে। এ ছাড়া, জাপানের টারশিয়ারি ইন্ডাস্ট্রি ইনডেক্সে উন্নতি দেখা গেছে, যা JPY-কে আরও শক্তিশালী করেছে।



যুক্তরাষ্ট্রের ডলার দুর্বল হলেও AUDUSD ও NZDUSD-এর দাম বাড়েনি, আর USDCAD-এ বিক্রির চাপও তৈরি হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য চুক্তি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ অস্ট্রেলীয়, নিউজিল্যান্ড ও কানাডীয় ডলারের মতো পণ্যনির্ভর মুদ্রার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। তবে অস্ট্রেলিয়া-যুক্তরাজ্য চুক্তির পর অস্ট্রেলিয়া-ইইউ বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আশাবাদ AUDUSD-এর দামকে সমর্থন দিচ্ছে। এদিকে, নিউজিল্যান্ডের PPI ও পরিষেবা PMI-এর মিশ্র তথ্যের কারণে NZDUSD-এর গতি থমকে গেছে।
এ ছাড়া, কানাডার গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি পণ্য ক্রুড অয়েলের দামে পতন এবং Bank of Canada (BoC)-এর ডোভিশ দৃষ্টিভঙ্গি USDCAD-কে শক্তিশালী থাকতে সাহায্য করছে। কানাডার নতুন সরকার নিয়ে আশাবাদ এবং National Bureau of Statistics (NBS)-এর মুখপাত্রের মন্তব্যে সমর্থন পাওয়া চীন-সংশ্লিষ্ট ইতিবাচক মনোভাব থাকা সত্ত্বেও এ প্রবণতা বজায় রয়েছে।
বাজারের অনিশ্চয়তার কারণে সোনা আগের সপ্তাহের কিছু দরপতন পুষিয়ে নিয়ে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। তবে, ইরান ও OPEC+ থেকে তেলের সরবরাহ বাড়তে পারে—এমন প্রত্যাশায় দামের ওপর চাপ থাকায় ক্রুড অয়েল স্থিতিশীল থাকতে পারছে না। মার্কিন ডলারের দুর্বলতাও সোনার ক্রেতাদের সমর্থন জোগাচ্ছে এবং আগের নিম্নমুখী পূর্বাভাসের বিপরীতে কাজ করছে। একই সঙ্গে এটি ক্রুড অয়েলের বিক্রেতাদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।
সামনে, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের ‘ব্রেক্সিট’ নিয়ে বক্তব্য, ইইউর চূড়ান্ত মুদ্রাস্ফীতির তথ্য এবং ফেডের মধ্যম সারির কর্মকর্তাদের মন্তব্য—শুরুর মিশ্র প্রবণতার পরও ট্রেডারদের সক্রিয় রাখবে। তবে, ট্রাম্পের সম্ভাব্য চীন সফর, ইইউ-যুক্তরাজ্য সম্মেলন, G7-এর হালনাগাদ তথ্য, RBA-র সুদের হার কমানো এবং কানাডার মুদ্রাস্ফীতির তথ্যের পাশাপাশি প্রধান অর্থনীতিগুলোর মে মাসের প্রাথমিক PMI পাঠের দিকেই নজর থাকবে।
অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে তেমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য না থাকা এবং খবরের স্বল্পতার কারণে US ডলারের ওপর চাপ অব্যাহত থাকতে পারে। এতে গুরুত্বপূর্ণ অ্যাসেটগুলো Greenback-এর বিপরীতে তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারে। এটি USDJPY-কে 140.00-এর কাছাকাছি গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্টের দিকে নিম্নমুখী প্রবণতা বাড়াতেও সাহায্য করতে পারে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!