Scan & Get our app!
Get our app!
Download our app and stay connected on the go.
Scan & Get our app!
Scan QR-code to download our app and stay connected on the go.

মঙ্গলবার বাজারের মনোভাব দুর্বল হয়েছে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি এবং কানাডা-মেক্সিকো শুল্ক নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের পক্ষে ইতিবাচক খবরগুলো নিয়ে ট্রেডাররা নতুন করে ভাবছেন। বুধবারের FOMC বৈঠকের আগে সতর্কতা বেড়েছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের হতাশাজনক খুচরা বিক্রয় এবং NY Fed-এর উৎপাদন সূচকের পর। ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধবিরতির অবসান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা বৃদ্ধি অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে।
নিরাপদ সম্পদের চাহিদায় সোনার দাম $3,000 ছাড়িয়ে নতুন সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এদিকে, টানা দুই দিনের দরপতনের পর ঘুরে দাঁড়িয়েছে US Dollar Index (DXY)। মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ক্রুড অয়েল শুক্রবারের লাভ ধরে রেখেছে। তবে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ বেরিয়ে যাওয়া এবং ট্রাম্পের প্রভাবের পর আশাবাদ কমে যাওয়ায় ক্রিপ্টোকারেন্সির ওপর চাপ রয়েছে।
জার্মানি ও যুক্তরাজ্য থেকে ইতিবাচক খবর এলেও US Dollar-এর ঘুরে দাঁড়ানো EURUSD ও GBPUSD-এর ক্রেতাদের পরীক্ষা করছে। তবে, জাপানের হস্তক্ষেপের আশঙ্কা ও বাজারের সামান্য আশাবাদে USDJPY টানা তৃতীয় দিনের মতো বেড়ে দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। AUDUSD ও NZDUSD সপ্তাহের সর্বোচ্চ স্তরের কাছাকাছি রয়েছে। অন্যদিকে, অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়া এবং কানাডা ও মেক্সিকোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বড় কোনো শুল্ক আরোপ না হওয়ার প্রত্যাশা উপেক্ষা করে USDCAD সপ্তাহের সর্বনিম্ন স্তর থেকে বেড়েছে।
বুধবার Federal Reserve-এর নীতি ঘোষণার আগে বাজারে সমন্বয় চলছে, এতে মার্কিন ডলার শক্তিশালী হচ্ছে। ফলে দুই দিনের ঊর্ধ্বগতির পর EURUSD চাপের মুখে পড়েছে, যদিও ঋণ পুনর্গঠনে জার্মানির অগ্রগতি রয়েছে। GBPUSD-ও নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে পিছিয়ে এসেছে। তবে USDJPY টানা তৃতীয় দিনের মতো বাড়ছে এবং এক সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, কারণ ট্রেডাররা জাপানের বাজারে হস্তক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। জাপানের অর্থমন্ত্রী Katsunobu Kato-এর সতর্ক মন্তব্য এবং Bank of Japan-এর বর্তমান সুদের হার বজায় রাখার প্রত্যাশাও USDJPY-এর এই ঊর্ধ্বগতিকে সমর্থন করছে।
তিন দিনের মধ্যে প্রথমবারের মতো দিনের লেনদেনে দর হারিয়েছে AUDUSD। চীন-সম্পর্কিত আশাবাদ নতুন করে যাচাই করছেন ট্রেডাররা এবং রিজার্ভ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়ার সারাহ হান্টারের সতর্ক বক্তব্য বিবেচনায় নিচ্ছেন। এর ফলে তিন সপ্তাহের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে পেয়ারটি নেমেছে। একইভাবে, নিউজিল্যান্ডের অর্থনৈতিক রূপান্তর নিয়ে উদ্বেগ এবং রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউজিল্যান্ডের সম্ভাব্য সুদ কমানোর বিষয়টি আবার সামনে আসায় NZDUSD তিন মাসের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে নেমে দুই দিনের দরবৃদ্ধির ধারার ইতি টেনেছে।
কানাডার আজকের CPI প্রকাশ এবং বুধবারের FOMC বৈঠকের আগে বাজারে স্থিতিশীলতা আসায় USDCAD এক সপ্তাহের সর্বনিম্ন স্তর থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং টানা দুই দিনের দরপতন থামিয়েছে। তবে উল্লেখ্য, হোয়াইট হাউসের মন্তব্যে কানাডা ও মেক্সিকোর ওপর শুল্ক আরোপের অবস্থান কিছুটা নমনীয় হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে, যা কানাডিয়ান ডলারকে (CAD) সমর্থন দিচ্ছে। এ ছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে ক্রুড অয়েলের দাম বাড়ছে, যা CAD-কে শক্তিশালী করছে; কারণ তেল কানাডার অন্যতম প্রধান রপ্তানি পণ্য।
ট্রেডারদের উদ্বেগ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর কেনাকাটা এবং প্রায় $3,000-এ 11 মাসের রেজিস্ট্যান্স ভেঙে যাওয়ার জেরে সোনার ঊর্ধ্বমুখী গতি অব্যাহত রয়েছে। দাম বেড়ে নতুন সর্বকালের সর্বোচ্চ প্রায় $3,017-এ পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বল অর্থনৈতিক তথ্যের মধ্যে ফেডের ডোভিশ অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ বজায় থাকায়, মার্কিন ডলারের সামান্য পুনরুদ্ধারও সোনার দামে তেমন প্রভাব ফেলেনি।
এদিকে, বাজারের মনোভাব মিশ্র থাকলেও WTI ক্রুড অয়েল টানা তিন দিনের দরবৃদ্ধি ধরে রেখেছে। ইসরায়েল-হামাসের শান্তি আলোচনা ভেঙে পড়া, ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা এবং বিশ্বজুড়ে ঝুঁকি বাড়ার বিষয়ে OECD-র পূর্বাভাসসহ বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা তেলের দামকে সমর্থন দিচ্ছে। তবে OPEC+-এর সরবরাহ বাড়ানোর আলোচনা, উৎপাদন বাড়াতে ট্রাম্পের চাপ এবং বড় ভোক্তা দেশগুলোর চাহিদা নিয়ে উদ্বেগ দামের ঊর্ধ্বগতির সম্ভাবনা সীমিত করছে।



সোমবারের উত্থানের পর Bitcoin (BTCUSD) ও Ethereum (ETHUSD) আবার পিছিয়েছে। রেকর্ড ETF থেকে অর্থপ্রবাহ, প্রাতিষ্ঠানিক আগ্রহ কমে আসা এবং ট্রেডিং ভলিউম হ্রাসের কারণে এগুলোর ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের Bitcoin-পন্থী অবস্থান এবং MicroStrategy-র বড় BTC মজুত থাকা সত্ত্বেও ক্রিপ্টো বাজারে চাপ অব্যাহত রয়েছে।
মঙ্গলবারের সেশনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশিত হবে। বাজারের গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে কানাডার CPI, যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন ও শিল্প উৎপাদনের তথ্য এবং ইউরোজোনের ZEW মনোভাব সূচক। অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বল তথ্য Fed-এর কড়া নীতির পক্ষে থাকা কর্মকর্তাদের চ্যালেঞ্জ করায় USDCAD-এর ওপর চাপ পড়তে পারে, যদি না কানাডার মূল্যস্ফীতির তথ্য হতাশ করে।
এদিকে, USDJPY ছাড়া বেশিরভাগ প্রধান মুদ্রার দর কমতে পারে। বাজারের মনোভাব নাজুক থাকলে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের মুদ্রা ও ক্রিপ্টোকারেন্সির দরপতন আরও বাড়তে পারে। তবে বুধবারের FOMC সিদ্ধান্তের আগে সোনার দাম দৃঢ় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!