Scan & Get our app!
Get our app!
Download our app and stay connected on the go.
Scan & Get our app!
Scan QR-code to download our app and stay connected on the go.

যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক নিয়ে স্বস্তি, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধবিরতি নিয়ে আশাবাদ এবং মিশ্র PMI ডেটার কারণে সপ্তাহের শুরুটা ইতিবাচক হয়েছিল। তবে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক পরিকল্পনা এবং যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি আলোচনা নিয়ে হালনাগাদ তথ্যের অপেক্ষায় ট্রেডারদের বাজার-মনোভাব দুর্বল হয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের Consumer Confidence ডেটা, আবাসনবিষয়ক প্রতিবেদন, Fed কর্মকর্তাদের মিশ্র মন্তব্য এবং অর্থনৈতিক সূচির শান্ত সময়ের আগে সতর্কতাও বাজারের গতি কমিয়ে দেয়।
এর ফলে US Dollar Index (DXY) তিন সপ্তাহের সর্বোচ্চ স্তরের কাছাকাছি রয়েছে, তবে টানা চার দিনের উত্থান ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। এতে সোনার দামে উত্থান দেখা গেছে। EURUSD, GBPUSD ও AUDUSD বিক্রেতাদের মোকাবিলা করতে পারছে না, অন্যদিকে USDJPY তিন সপ্তাহের সর্বোচ্চ স্তর থেকে নেমে এসেছে এবং টানা তিন দিনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা থেমেছে। এদিকে, টানা পাঁচ দিনের দরপতনের পরও NZDUSD চাপের মধ্যে রয়েছে, আর এক সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে বড় দরপতনের পর USDCAD ঘুরে দাঁড়াতে হিমশিম খেয়েছে। অন্যদিকে, OPEC+ আলোচনা চলার মধ্যে ক্রুড অয়েলের দাম তিন সপ্তাহের সর্বোচ্চ স্তর থেকে নেমেছে, আর ক্রিপ্টোকারেন্সির দামও কমেছে। তবে ওয়াল স্ট্রিটের ইতিবাচক পারফরম্যান্সের জেরে এশিয়া-প্যাসিফিকের শেয়ারবাজার বেড়েছে।
মঙ্গলবারের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের মিশ্র PMI এবং সতর্ক আশাবাদ USD ক্রেতাদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করলেও, টানা চার দিন পতনের পর EURUSD দুই সপ্তাহের সর্বনিম্ন স্তরের কাছাকাছি ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে মার্চে জার্মানি ও ইউরোজোনের দুর্বল PMI, ECB নীতিনির্ধারকদের কড়াকড়িমুখী পদক্ষেপে অনীহা এবং ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধবিরতি নিয়ে উদ্বেগ—এসব কারণে EURUSD-এর দর ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হতে পারে।
BoE গভর্নর Andrew Bailey-এর আশাব্যঞ্জক বক্তব্যের পর সোমবার GBPUSD-এর টানা দুই দিনের পতন থামে। তবে মার্চের যুক্তরাজ্যের PMI-এর মিশ্র ফল এবং বুধবারের British Spring Budget-এর আগে অনিশ্চয়তার কারণে মঙ্গলবারের শুরুতে পাউন্ড সামান্য পিছিয়ে যায়।
এদিকে, জানুয়ারির বৈঠকের কার্যবিবরণীতে BoJ-এর কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত মেলার পর USDJPY টানা চার দিনের মধ্যে প্রথম দৈনিক দরপতন দেখিয়েছে এবং তিন সপ্তাহের সর্বোচ্চ স্তর থেকে নেমেছে। BoJ গভর্নর কাজুও উয়েদার ইতিবাচক মন্তব্য এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইশিবার কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনার খবরও ইয়েনের ওপর চাপ বাড়িয়েছে।
সোমবার, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নিয়ে আশাবাদ এবং চীনের প্রণোদনা প্রচেষ্টার ইতিবাচক মনোভাব অস্ট্রেলিয়ার মিশ্র PMI ডেটার প্রভাবকে ছাপিয়ে যায়। এতে AUDUSD টানা পাঁচ দিনের মধ্যে প্রথমবারের মতো দিনে ঊর্ধ্বমুখী হয়। তবে মঙ্গলবারের শুরুতে শান্ত ট্রেডিং এবং গুরুত্বপূর্ণ US ডেটা ও খবরের আগে দর একীভূত হওয়ায় এই বৃদ্ধি কমে যায়।
এদিকে, NZDUSD টানা ষষ্ঠ দিনের মতো নিম্নমুখী রয়েছে। নিউজিল্যান্ডের অর্থনৈতিক রূপান্তর নিয়ে উদ্বেগ এবং RBNZ-এর ডোভিশ অবস্থান কিউইর ওপর চাপ বজায় রেখেছে, যদিও চীন-সংক্রান্ত খবরে কিছুটা আশাবাদ দেখা গেছে।
ক্রুড অয়েলের দাম বৃদ্ধি এবং কানাডার ওপর সম্ভাব্য মার্কিন শুল্ক ছাড় নিয়ে আশাবাদের কারণে USDCAD এক সপ্তাহের মধ্যে দিনের হিসাবে সবচেয়ে বড় দরপতনের মুখে পড়ে। তবে মঙ্গলবারের শুরুর দিকে জুটিটি ঘুরে দাঁড়ানোর গতি পায়নি। ক্রুড অয়েলের দাম কমলেও এবং মার্কিন ডলার শক্তিশালী অবস্থান ধরে রাখতে হিমশিম খেলেও এই অবস্থা ছিল। কানাডার রাজনৈতিক অস্থিরতা, যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্য উত্তেজনা এবং বাজারের মিশ্র মনোভাবের কারণে এই দ্বিধা তৈরি হয়ে থাকতে পারে।



মঙ্গলবারের শুরুতে সোনার দাম টানা তিন দিনের পতন থামিয়ে $3,006-এর কাছাকাছি একাধিক টেকনিক্যাল সাপোর্ট থেকে ঘুরে দাঁড়ায়। বাজারের সতর্ক মনোভাব এবং মার্কিন ডলারের শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে হিমশিম খাওয়ার কারণে মূল্যবান ধাতুটি সুবিধা পায়। উল্লেখ্য, বড় ধরনের প্রণোদনা দেওয়ার জন্য চীনের প্রস্তুতি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বাড়তি চাহিদাও সোনার সাম্প্রতিক ঘুরে দাঁড়ানোকে সমর্থন করছে।
অন্যদিকে, OPEC+ পরিকল্পনা অনুযায়ী সরবরাহ বাড়ানোর সময়সূচি চালিয়ে যেতে প্রস্তুত—এমন আলোচনা চলার মধ্যে অপরিশোধিত তেলের দাম তিন সপ্তাহের সর্বোচ্চ স্তরের কাছাকাছি স্থির রয়েছে, জানিয়েছে Reuters। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাজারে আরও তেল ফিরে আসার আশঙ্কা রয়েছে।
ETF চালুর জন্য Trump Media-এর crypto.com-এর সঙ্গে চুক্তি এবং বড় এক Bitcoin হোল্ডারের BTC কেনা—কোনোটিই মঙ্গলবারের শুরুর দিকে Bitcoin (BTCUSD) ও Ethereum (ETHUSD)-এর দর বাড়াতে পারেনি। সপ্তাহের শুরুটা শক্তিশালী হলেও, দুই ক্রিপ্টোকারেন্সিরই দৈনিক দরপতন হয়েছে। এর কারণ হতে পারে ট্রাম্পের প্রতি আস্থার অভাব, যা মার্চের শুরুর দিকে ক্রিপ্টো রিজার্ভ নিয়ে হতাশাজনক ঘোষণার পর তৈরি হয়েছে।
ধীরগতিতে শুরু হলেও, জার্মানির IFO সেন্টিমেন্ট ডেটা প্রকাশের পর বাজারের অস্থিরতা বাড়তে পারে। এরপর প্রকাশিত হবে US Consumer Confidence এবং হাউজিং মার্কেটের পরিসংখ্যান। 2 এপ্রিলের সময়সীমার আগে ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতি নিয়ে US-রাশিয়া আলোচনার অগ্রগতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক পরিকল্পনা সম্পর্কিত খবরের দিকেও ট্রেডাররা নজর রাখবেন।
US Federal Reserve নিয়ে ডোভিশ প্রবণতা এবং মিশ্র অর্থনৈতিক তথ্যের প্রেক্ষাপটে, সামনে আসা তথ্য দুর্বল হলে মার্কিন ডলারের দর কিছুটা কমতে পারে। এতে অন্যান্য প্রধান কারেন্সি, পণ্য এবং অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মুদ্রাগুলো সাম্প্রতিক কিছু ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারে। তবে ক্রুড অয়েলের দর দুর্বল থাকা এবং চলমান রাজনৈতিক ও বাণিজ্য উত্তেজনার কারণে USDCAD-এ বিক্রেতারা আকৃষ্ট হতে পারেন, এমন সম্ভাবনা কম। API-এর তথ্যে তেলের মজুত বাড়ার ইঙ্গিত মিললে ক্রুডের দর আরও কমতে পারে। অন্যদিকে, গুরুত্বপূর্ণ টেকনিক্যাল সাপোর্ট থেকে সোনার ঘুরে দাঁড়ানো অব্যাহত থাকতে পারে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!