Scan & Get our app!
Get our app!
Download our app and stay connected on the go.
Scan & Get our app!
Scan QR-code to download our app and stay connected on the go.

বৃহস্পতিবারের আশাব্যঞ্জক মার্কিন Q4 GDP-ও মার্কিন ডলারকে চাঙা করতে পারেনি। বেকারত্ব ভাতার দাবির মিশ্র তথ্য এবং চলতি হিসাবের ঘাটতি বাড়ায় বাজারের মনোভাব দুর্বল হয়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে মার্কিন শুল্কের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগও ডলারের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। ফলে US Dollar Index (DXY) 12 দিনের মধ্যে সবচেয়ে বড় দৈনিক পতন দেখেছে। এদিকে, আজকের মার্কিন Core PCE Price Index প্রকাশের আগে Federal Reserve-এর নীতি আরও নমনীয় হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে বাজি বাড়ছে। Fed-এর পছন্দের মূল্যস্ফীতি সূচকটি প্রকাশের আগে এই প্রবণতাও ডলারের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। ফলে, দুর্বল একটি দিনের পর শুক্রবারের শুরুতে DXY অনেকটা স্থির রয়েছে। আগের দিনের এই দুর্বলতা প্রধান মুদ্রা, পণ্য এবং ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেটগুলোকে প্রভাবিত করছে।
বৃহস্পতিবার ডলারের দুর্বলতা EURUSD ও GBPUSD-কে সাপ্তাহিক সর্বনিম্ন থেকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে। জাপান মার্কিন বাণিজ্যনীতির প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে—এমন আশঙ্কায় USDJPY বেড়েছে। এদিকে চীনকে ঘিরে আশাবাদে AUDUSD ও NZDUSD সামান্য বেড়েছে। তবে ক্রুড অয়েলের দাম কমা এবং যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্য উত্তেজনার কারণে USDCAD ঘুরে বেড়েছে।
বাজারের অনিশ্চয়তা উপেক্ষা করে শুক্রবারের শুরুতে সোনা আগের $3,058-এর রেকর্ড উচ্চতাকে চ্যালেঞ্জ করে নতুন সর্বোচ্চ $3,080-এ পৌঁছায়। তবে সরবরাহ বাড়ার প্রত্যাশার মধ্যে দুর্বল USD এবং চীন থেকে আসা আশাব্যঞ্জক খবরের সুবিধা নিতে পারেনি ক্রুড অয়েল। ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলো সতর্ক অবস্থানে ছিল, পরে নতুন করে বিক্রির চাপের মুখে পড়ে। অন্যদিকে, ইকুইটিগুলোর দর সামান্য কমেছে।
জার্মানিকে ঘিরে আশাবাদ থাকা সত্ত্বেও EURUSD টানা দ্বিতীয় সপ্তাহে লোকসানের মুখে পড়তে পারে। ECB কর্মকর্তাদের নমনীয় অবস্থানের বক্তব্যের সঙ্গে সম্ভাব্য US-EU বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে সামনে আসা অর্থনৈতিক উদ্বেগও যুক্ত হয়েছে। এ ছাড়া, রাশিয়া যুদ্ধবিরতি ভেঙেছে বলে ইউক্রেনের অভিযোগও ইউরো জুটির ওপর নিম্নমুখী চাপ সৃষ্টি করেছে।
শুক্রবারের শুরুতে সামান্য দরপতন হলেও GBPUSD সাপ্তাহিকভাবে ইতিবাচক ফলের দিকে এগোচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। ব্রিটিশ অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে এবং ওয়াশিংটন ও লন্ডনের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা কিছুটা কমবে—এমন আশায় Cable পেয়ারটি যুক্তরাজ্যের বেশিরভাগ দুর্বল অর্থনৈতিক তথ্য, BoE-এর আরও সুদের হার কমানোর আশঙ্কা এবং প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ বসন্তকালীন বাজেটকে উপেক্ষা করছে। উল্লেখ্য, শুক্রবার যুক্তরাজ্যের জিডিপি ও খুচরা বিক্রির ইতিবাচক তথ্য প্রকাশের পর প্রেস টাইমে Cable পেয়ারটির দৈনিক দরপতন কমেছে।
জাপানে মূল্যস্ফীতি বেশি হলেও USDJPY-তে তার প্রতিফলন নেই, যা ব্যাংক অব জাপান (BoJ) ঘন ঘন সুদের হার বাড়াতে পারে বলে ইঙ্গিত দেয়। ইয়েন পেয়ারটির ঊর্ধ্বমুখী গতি যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের কারণে জাপানের অর্থনৈতিক রূপান্তর নিয়ে সংশয় এবং ত্রৈমাসিক শেষের বাজার-সমন্বয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। ইয়েনকে সমর্থন দিতে জাপানের হস্তক্ষেপ নিয়েও মিশ্র মনোভাব রয়েছে।
শুক্রবারের শুরুতে মার্কিন ডলারের শক্তিশালী হওয়া এবং ফেডের মুদ্রাস্ফীতির তথ্য প্রকাশের আগে বাজারের উদ্বেগ, পাশাপাশি মে মাসে নির্বাচনের ঘোষণা ঘিরে অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক সতর্কতা—সব মিলিয়ে AUDUSD-এর ওপর চাপ পড়েছে। তা সত্ত্বেও, এই অস্ট্রেলীয় ডলার জুটি সপ্তাহে ঊর্ধ্বমুখী থাকার পথে রয়েছে।
তবে, মার্চের হতাশাজনক নিউজিল্যান্ডের ভোক্তা আস্থা-সংক্রান্ত তথ্যের চাপে NZDUSD-এর সপ্তাহ শেষে দরপতনের সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, আগের দিনের পুনরুদ্ধার অব্যাহত রেখে USDCAD সাপ্তাহিক ক্ষতি কিছুটা কমিয়েছে। কানাডার নতুন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি মার্কিন শুল্কের পাল্টা ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন, আর ব্যাংক অফ কানাডার নীতিতে ডোভিশ অবস্থানের প্রত্যাশাও জোরালো রয়েছে। পাশাপাশি, সরবরাহ ও চাহিদার মিশ্র ইঙ্গিতের মধ্যে ক্রুড অয়েল ক্রেতা আকর্ষণ করতে হিমশিম খাচ্ছে। কানাডার প্রধান রপ্তানি পণ্য হিসেবে তেলের গুরুত্বের কারণে এতে কানাডিয়ান ডলারের ওপর আরও চাপ পড়েছে।



US Dollar-এর দুর্বলতা, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নিয়ে অনিশ্চয়তা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ও রাজনীতি নিয়ে বিস্তৃত উদ্বেগের সুবিধা পেয়ে গোল্ডের দাম বাড়ছে। গুরুত্বপূর্ণ টেকনিক্যাল সাপোর্ট থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে মূল্যবান ধাতুটির দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ প্রায় $3,080-এর কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছে এবং 15 সপ্তাহ ধরে থাকা প্রায় $3,088-এর রেজিস্ট্যান্সের দিকে এগোচ্ছে। ফেডের নীতি শিথিল করার প্রত্যাশা বাড়া এবং চীন ও বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর চাহিদা বৃদ্ধি থেকেও অতিরিক্ত সমর্থন পাচ্ছে গোল্ড।
এদিকে, Crude Oil সপ্তাহের সর্বোচ্চ দামের কাছাকাছি রয়েছে। বিশ্বজুড়ে জ্বালানির চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কার সঙ্গে OPEC+ সরবরাহ বাড়াতে পারে—এমন উদ্বেগের সংঘাত চলছে। US Dollar দুর্বল হওয়ায় WTI-তে ক্রেতারা আকৃষ্ট হচ্ছেন, তবে ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতা এবং মজুত বাড়ায় দামের ঊর্ধ্বগতি সীমিত হচ্ছে।
নতুন বাণিজ্য ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, ক্রিপ্টো নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থানের প্রতি কমে আসা আস্থা এবং ETF থেকে বড় অঙ্কের অর্থ বেরিয়ে যাওয়ায় বাজারের মনোভাব চাপে পড়েছে। ফলে Bitcoin (BTCUSD) ও Ethereum (ETHUSD)-এর দৈনিক দরপতন আরও বেড়েছে এবং সাপ্তাহিক পতনের পথে রয়েছে। এর সঙ্গে বাজারে কম তারল্যও দরপতনের চাপ বাড়াচ্ছে। তবে Liberation Day-এর আগে শিল্পখাতের সতর্ক অবস্থান এবং কয়েকজন বড় বিনিয়োগকারীর নতুন করে Bitcoin জমা করায়, প্রান্তিক-শেষের দর স্থিতিশীল হওয়ার মধ্যে আরও বড় পতন সীমিত হতে পারে।
জাপানের মূল্যস্ফীতির তথ্য এবং যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর, বাজারের দিকনির্দেশনা আরও স্পষ্ট করতে ট্রেডাররা এখন ইউরোজোনের ভোক্তা আস্থা, কানাডার মাসিক GDP এবং যুক্তরাষ্ট্রের Core PCE Price Index-এর দিকে নজর রাখছেন। ECB ও BoC-কে ঘিরে নীতিগতভাবে সুদ কমানোর পক্ষপাত EURUSD-এর ওপর চাপ বজায় রাখতে পারে এবং USDCAD-এর ক্রেতাদের সহায়তা করতে পারে—যদি না Fed-এর মূল্যস্ফীতির তথ্য সুদ কমানোর পক্ষে Fed-কে ঘিরে থাকা প্রত্যাশাকে আরও জোরালো করে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধবিরতি এবং বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলতে পারে এমন যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন বাণিজ্যযুদ্ধের নতুন আশঙ্কা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকে সুবিধা পেয়ে সোনার দাম $3,100-এর দিকে এগোচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে US Dollar-এর সাপ্তাহিক লাভ কিছুটা কমতে পারে। তবে GBPUSD এবং অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের ডলার এতে লাভবান হতে হিমশিম খেতে পারে, আর USDJPY-তে সামান্য পুলব্যাক দেখা যেতে পারে। ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ক্রুড অয়েলের ওপর চাপ বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, US-এর তথ্য প্রত্যাশার চেয়ে দুর্বল হলে শেয়ারবাজারের সাপ্তাহিক লোকসান কিছুটা কমতে পারে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!