Scan & Get our app!
Get our app!
Download our app and stay connected on the go.
Scan & Get our app!
Scan QR-code to download our app and stay connected on the go.

শুক্রবারের শুরুতে বাজারের গতি এখনও অস্থির, সাম্প্রতিক সময়ের মিশ্র প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ তথ্য বেশিরভাগই আশাব্যঞ্জক ছিল না। তবে দুর্বল PPI প্রতিবেদনের কারণে ফেডের সুদের হার কমানোর প্রত্যাশা বেড়েছে এবং মার্কিন ডলারের ওপর চাপ পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বিক্রির তথ্য ভোক্তাদের আশাবাদ দেখালেও, ডলারের দাম বাড়ানোর জন্য তা যথেষ্ট ছিল না।
ইউক্রেন নিয়ে তুরস্কে শান্তি আলোচনায় যোগ না দেওয়ায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সিদ্ধান্তে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। এদিকে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে তারা নতুন কোনো প্রস্তাব পায়নি। তবে সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলে পারমাণবিক উৎপাদন বন্ধ করতে প্রস্তুত বলে ইঙ্গিত দিয়েছে। চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে “সহযোগিতার যথেষ্ট সুযোগ” রয়েছে। অন্যদিকে, চীনা চিপ নির্মাতাদের কালো তালিকাভুক্ত করা হবে কি না, তা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে, ফেড চেয়ার জেরোম পাওয়েল সুদের হার নিয়ে স্পষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা দেননি। তবে কর্মসংস্থান ও মূল্যস্ফীতির প্রবণতা বদলানোর কারণে ফেড তাদের যোগাযোগের কৌশল সমন্বয় করতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
জাপানের প্রথম প্রান্তিকের GDP প্রবৃদ্ধি ধীর হয়েছে। টোকিওর কর্মকর্তারা এর জন্য বাজারের বৃহত্তর অনিশ্চয়তাকে দায়ী করেছেন। বাণিজ্য অচলাবস্থা নিরসনে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে FX-সহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনার আগ্রহও দেখিয়েছেন।
চলমান ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনে অস্ট্রেলিয়া চীনের পাশে দাঁড়িয়েছে, আর নিউজিল্যান্ডে এসেছে আশাব্যঞ্জক অর্থনৈতিক তথ্য। কানাডায় তেলের দামে ঘুরে দাঁড়ানো এবং নতুন সরকারকে ঘিরে আশাবাদ দেখা গেছে।
US Dollar Index (DXY) বাজারে চাপের মধ্যে রয়েছে এবং সাপ্তাহিক লাভের বেশিরভাগটাই খুইয়েছে। সোনার দাম সাম্প্রতিক পুনরুদ্ধার ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে এবং সপ্তাহজুড়ে নিম্নমুখী চাপের মুখে রয়েছে। USD দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও ECB কর্মকর্তাদের সতর্ক বক্তব্য উপেক্ষা করে EURUSD-এর দরপতন স্থিতিশীল হচ্ছে। GBPUSD সপ্তাহে লাভের পথে রয়েছে, আর USDJPY-এর 3 সপ্তাহের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ভেঙে যাওয়ার আভাস মিলছে। AUDUSD ও NZDUSD সামান্য বেড়েছে, আর USDCAD টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কমেছে।
বৃহস্পতিবার দিনের শেষভাগে হওয়া উত্থান ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে ক্রুড অয়েল। এদিকে, ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলো সাপ্তাহিক দরপতনের কিছুটা পুষিয়ে নিচ্ছে। শেয়ারবাজারে সামান্য ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে।
দুর্বল US Dollar-এর কারণে আগের দিনের ঘুরে দাঁড়ানোর পর EURUSD সামান্য বেড়েছে, তবে সপ্তাহের হিসাবে এখনও নিচে রয়েছে। ECB কর্মকর্তাদের Kazāks ও Villeroy-এর সতর্ক মন্তব্য সত্ত্বেও, EU-এর Sefcovic এবং US বাণিজ্য সচিব Lutnick বাণিজ্য আলোচনা দ্রুত করার বিষয়ে একমত হয়েছেন—এমন খবরে মুদ্রাজোড়াটি সমর্থন পেয়েছে। EU-এর প্রথম প্রান্তিকের প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের তথ্য মিশ্র ছিল, তবে মাসিক শিল্প উৎপাদনে উন্নতি দেখা গেছে।
GBPUSD তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী রয়েছে এবং সপ্তাহে লাভের পথে রয়েছে। তথ্য-উপাত্ত খুব শক্তিশালী না হলেও ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের কর্মকর্তারা যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি নিয়ে আশাবাদী। বড় অর্থনীতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিশ্চিত করতে ব্রিটেনের সাফল্যের কথাও তাঁরা উল্লেখ করেছেন।
জাপানের প্রথম প্রান্তিকের GDP দুর্বল হলেও শিল্প উৎপাদন উন্নত হয়েছে। এদিকে, USDJPY টানা চতুর্থ দিনের মতো কমেছে। জাপানের অর্থমন্ত্রী কাতো সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য মার্কিন কর্মকর্তা Bassent-এর সঙ্গে বৈঠকের অনুরোধ করেছেন। একই সময়ে, BOJ কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি নিয়ে সমালোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন, যা বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ইয়েনের চাহিদা USDJPY-কে চাপের মধ্যে রাখছে।



AUD, NZD এবং CAD সামান্য শক্তিশালী রয়েছে এবং সাম্প্রতিক লাভ ধরে রেখেছে। তবে সপ্তাহজুড়ে NZD চাপের মুখে থাকলেও, AUD ও CAD সর্বশেষ ঘুরে দাঁড়ানো থেকে লাভবান হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী তথ্য এবং চীনকে ঘিরে আশাবাদ সম্ভবত AUDUSD-এর ক্রেতাদের সমর্থন জুগিয়েছে। এর পরও, ক্যানবেরা চীনের পক্ষ নিয়েছে এবং বাণিজ্যযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দেয়নি।
নিউজিল্যান্ডের Inflation Expectations এবং Manufacturing PMI-এর ইতিবাচক ফলাফলে সমর্থন পেয়ে NZDUSD আজ কিছুটা শক্তিশালী।
কানাডার সরকার ও বৈশ্বিক সম্পর্ক নিয়ে আশাবাদ থাকা সত্ত্বেও USDCAD সাপ্তাহিক লাভের কিছুটা হারাচ্ছে এবং টানা দুই দিন ধরে কমছে। এর মধ্যেই কানাডার প্রধান রপ্তানি পণ্য অপরিশোধিত তেলের দামে অনিশ্চয়তা রয়েছে, আর বৃহস্পতিবারের দরপতনের পরের ঊর্ধ্বগতি দ্রুতই ম্লান হয়ে গেছে।
মার্কেটের দিকনির্দেশনা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে মার্কিন ডলারের দুর্বলতা সোনার (XAUUSD) দামকে এক সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় দৈনিক উত্থানে সহায়তা করেছে, যদিও এর আগে দাম মাসিক সর্বনিম্নে নেমেছিল। তবে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাময়িক সমঝোতার পর মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আরও ইতিবাচক খবরের অপেক্ষায় ট্রেডাররা থাকায় সপ্তাহজুড়ে সোনার দাম চাপের মধ্যে রয়েছে। এদিকে, রাশিয়া-ইউক্রেনের চলমান উত্তেজনা, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা থমকে থাকা এবং গাজা ও ভারত-পাকিস্তানে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সোনার চাহিদাকে সমর্থন করছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা থমকে যাওয়ার পর তেলের দামে সামান্য উত্থান দেখা গেলেও (তেহরান নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছিল), সপ্তাহজুড়ে তেলের দাম চাপের মধ্যে রয়েছে এবং শুক্রবারের শুরুতে কমেছে। বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে উৎপাদন বৃদ্ধি ও জ্বালানির চাহিদা কমে যাওয়া, পাশাপাশি রাশিয়ার ওপর আসন্ন নিষেধাজ্ঞা এবং OPEC+-এর উৎপাদন বাড়ানোর ফলে সরবরাহে তৈরি হওয়া চ্যালেঞ্জ—সব মিলিয়ে তেল ট্রেডারদের ওপর চাপ তৈরি করছে।
এরই মধ্যে, কয়েক মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর ক্রিপ্টোকারেন্সির দাম সামান্য বাড়ছে, তবে পুরো সপ্তাহের গতিপথ এখনও অনিশ্চিত। শিল্পখাতের নিয়মকানুন নিয়ে আরও স্পষ্টতা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কাছ থেকে সম্ভাব্য স্বস্তির অপেক্ষায় আছেন ট্রেডাররা। আগামী সপ্তাহের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোও বাজারে উদ্বেগ বজায় রাখছে।
US-চীন সাময়িক সমঝোতা শুরুতে আশাবাদ তৈরি করেছিল। তবে এখন ট্রেডারদের নজর আসন্ন US আবাসন তথ্য এবং মে মাসের মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের কনজিউমার সেন্টিমেন্ট ইনডেক্স ও মূল্যস্ফীতির প্রত্যাশার দিকে। ইউরোপ, UK ও US-এর মধ্যম-স্তরের কেন্দ্রীয় ব্যাংকারদের বক্তব্যও বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে নজর এখনো যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তি, রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন, গাজা ও ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার মতো বৈশ্বিক ঝুঁকির বিষয়গুলোর ওপর রয়েছে।
সব মিলিয়ে, নতুন কোনো চমক না এলে শুক্রবারের লেনদেন ধীরগতির হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উত্তর আমেরিকার সেশনে US Dollar-এর সংশোধনমূলক উত্থান দেখা যেতে পারে, যা পণ্যদ্রব্য ও প্রধান মুদ্রাগুলোর ওপর (JPY বাদে) আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মুদ্রাগুলো সাপ্তাহিক দরবৃদ্ধির কিছুটা হারাতে পারে, আর ক্রিপ্টোতে ধীরগতির দরপতন হতে পারে। এদিকে, সপ্তাহ শেষে Gold-এর দর কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। $3,120-এর নিচে স্পষ্টভাবে নেমে গেলে হলুদ ধাতুর দামে বহুল প্রতীক্ষিত দর-সংশোধন শুরু হতে পারে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!