Scan & Get our app!
Get our app!
Download our app and stay connected on the go.
Scan & Get our app!
Scan QR-code to download our app and stay connected on the go.

ফেডের স্বাধীনতা এবং চীনের ওপর শুল্ক নিয়ে উদ্বেগ কমার পর ট্রাম্পের নতুন করে বাণিজ্য হুমকি বাজারের আস্থাকে নাড়িয়ে দিয়েছে। এপ্রিলে বৈশ্বিক PMI-এর দুর্বল তথ্য এবং বড় আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সতর্ক অবস্থানও অনিশ্চিত বাজার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
এমন পরিস্থিতিতে, টানা দুই দিনের উত্থানের পর US Dollar Index (DXY)-এ ঊর্ধ্বমুখী গতি নেই। অন্যদিকে, সর্বকালের সর্বোচ্চ দামের কাছ থেকে সোনার দরপতন আপাতত থেমেছে। এখন পর্যন্ত EURUSD ও GBPUSD—দুটিই তিন দিনের মধ্যে প্রথম দৈনিক উত্থান দেখিয়েছে, আর USDJPY সাত মাসের সর্বনিম্ন থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর গতি হারিয়েছে। এদিকে, AUDUSD ও NZDUSD ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, আর অপরিশোধিত তেলের দাম কমায় USDCAD পিছিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, শিল্পখাতের ইতিবাচক খবর সত্ত্বেও ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলো সাপ্তাহিক লাভের কিছুটা হারিয়েছে, আর শেয়ারবাজারেও ঊর্ধ্বমুখী গতি নেই।
মার্কিন ডলার দুর্বল হওয়ায় তিন দিনের মধ্যে প্রথমবারের মতো EURUSD বেড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ এবং ইউরোজোনের মিশ্র তথ্য সত্ত্বেও এই উত্থান হয়েছে। ইউরোপে চীনের বাড়তে থাকা আগ্রহ এবং ইইউর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার আলোচনা থেকেও সমর্থন মিলেছে।
এদিকে, IMF জাপানের নীতির প্রতি সমর্থন জানানোয় এবং বাণিজ্য উত্তেজনা আবার বেড়ে ওঠায় USDJPY কমেছে। জাপান নিয়ে ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান আরও দরপতন সীমিত করলেও, Fed ও BoJ-এর নীতিগত ব্যবধান এই কারেন্সি পেয়ারের ওপর চাপ বজায় রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যচাপের বিরুদ্ধে BoE গভর্নর বেইলির অবস্থান বাজারের মনোভাব দুর্বল করেছে। তবে ডলারের দর কিছুটা কমা এবং BoE-র সুদের হার কমানো স্থগিত রাখার প্রত্যাশায় পাউন্ডের দর বেড়েছে। সাম্প্রতিক সাত মাসের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে হওয়া দরপতন কাটিয়ে GBPUSD টানা তিন দিনের মধ্যে প্রথমবারের মতো বেড়েছে। তবে যুক্তরাজ্যের দুর্বল PMI তথ্য আরও দরবৃদ্ধির পথে বাধা হয়ে আছে।
মার্কিন ডলার দুর্বল হওয়ায় প্রধান মুদ্রাগুলো শক্তিশালী হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের বাণিজ্য উত্তেজনা, তেলের কম দাম এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ডোভিশ অবস্থানের কারণে AUD, NZD ও CAD চাপে রয়েছে। চীনের ওপর শুল্ক কমানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইঙ্গিত সাময়িক স্বস্তি দিলেও, গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন তথ্য প্রকাশের আগে দরবৃদ্ধি সীমিত। এদিকে, কানাডার প্রতি ওয়াশিংটনের কঠোর অবস্থান সাম্প্রতিক USDCAD দুর্বলতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে।
দুই দিনের দরপতনের পর সোনার দাম সামান্য বেড়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের বাণিজ্য নিয়ে মিশ্র খবর এবং মার্কিন তথ্য প্রকাশের আগে সতর্কতার কারণে ঊর্ধ্বগতির গতি নেই। তবু, বাজারের উদ্বেগ এবং দুর্বল ডলার XAU/USD-কে সমর্থন দিচ্ছে, কারণ বাণিজ্য সুরক্ষাবাদ নিয়ে আশঙ্কা বাড়ছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মজুত অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়ে যাওয়া এবং উৎপাদন বাড়াতে OPEC+-এর ওপর চাপের কারণে তেলের দাম কমেছে। চীনের জ্বালানি চাহিদা নিয়ে উদ্বেগও দামের ওপর চাপ বাড়িয়েছে, যদিও ডলারের দুর্বলতা দরপতন সীমিত রাখতে সাহায্য করছে।
যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য উত্তেজনা নতুন করে বাড়ায় Bitcoin (BTCUSD) ও Ethereum (ETHUSD) সাম্প্রতিক সর্বোচ্চ দর থেকে পিছিয়ে এসেছে, ফলে সাপ্তাহিক লাভ কমেছে। BTC ETF-এর চাহিদা বৃদ্ধি, গুরুত্বপূর্ণ হোল্ডারদের বৈঠকের আগে TRUMP মিম কয়েনে উত্থান এবং বাছাই করা বিনিয়োগকারীদের জন্য রাশিয়ার ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ চালু হওয়া সত্ত্বেও দরপতন হয়েছে।



যুক্তরাষ্ট্রের টেকসই পণ্যের অর্ডার ও বেকারত্ব ভাতার দাবি, যুক্তরাজ্যের খুচরা বিক্রির তথ্য, IMF-এর হালনাগাদ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বক্তব্য সামনে থাকায় ট্রেডারদের নজর রাখার মতো অনেক কিছু রয়েছে। তবে চীন-সংক্রান্ত শুল্ক এবং 90টি দেশের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থানের দিকেই নজর রয়েছে। হোয়াইট হাউসের বক্তব্যে বাজারের মনোভাব উন্নত হলে এবং বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ কমলে, মার্কিন ডলার চার সপ্তাহের দরপতনের ধারা ভেঙে ঘুরে দাঁড়াতে পারে। এতে EUR/USD, GBP/USD এবং পণ্যনির্ভর মুদ্রাগুলোর ওপর চাপ পড়তে পারে। এদিকে, সোনা ও JPY-এর চাহিদা বজায় থাকতে পারে, তেলের দর দুর্বল থাকতে পারে এবং ক্রিপ্টো ও শেয়ারবাজারের লাভ ধরে রাখতে পারে—যদি না ট্রাম্প আবারও বাজারের আস্থা নড়িয়ে দেন।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!