Scan & Get our app!
Get our app!
Download our app and stay connected on the go.
Scan & Get our app!
Scan QR-code to download our app and stay connected on the go.

আজ বাজারের মনোভাব সতর্কভাবে ইতিবাচক। প্রত্যাশার চেয়ে দুর্বল US Core CPI এবং হতাশাজনক NY Empire State Manufacturing Index ফেডের হকিশ অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ করায় এই মনোভাব জোর পেয়েছে। এতে ঝুঁকি নিতে আগ্রহী ট্রেডাররা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। প্রধান অর্থনীতিগুলো থেকে ইতিবাচক সংকেত, চীনের প্রণোদনা এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মিশ্র প্রভাবও বাজারের মনোভাবে সহায়তা করছে। তবে, ফেড কর্মকর্তারা সুদের হার কমানোর বিষয়ে দ্বিধায় রয়েছেন। ফেডের Beige Book-এ অর্থনীতির মাঝারি গতির রূপান্তরের ইঙ্গিত নীতিগত সমন্বয়কে জটিল করে তুলতে পারে এবং বাজারের এই মনোভাবের পরীক্ষা নিতে পারে। এ সপ্তাহের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো নিয়েও উদ্বেগ ট্রেডিংয়ের গতিকে প্রভাবিত করছে।
এই পরিস্থিতিতে US Dollar Index (DXY) এক সপ্তাহের সর্বনিম্ন স্তরের কাছাকাছি স্থির রয়েছে, টানা তিন দিনের পতন থেমেছে। অন্যদিকে, সোনা সপ্তাহের সর্বোচ্চ স্তর থেকে নেমে তিন দিনের মধ্যে প্রথমবারের মতো দিনের হিসাবে দর হারিয়েছে।
এক সপ্তাহের সর্বোচ্চ থেকে নেমে EURUSD দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। US Dollar দুর্বল হওয়ার সুবিধা নিতে পারেনি এটি। এদিকে GBPUSD-এর টানা তিন দিনের উত্থান থেমেছে।
USDJPY এক মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে, আর AUDUSD, NZDUSD ও USDCAD-এর সাপ্তাহিক লাভ কিছুটা কমেছে। অপরিশোধিত তেলের দাম ছয় মাসের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নেমে এসেছে, ফলে এক সপ্তাহের মধ্যে হওয়া সবচেয়ে বড় দৈনিক উত্থান মুছে গেছে। এদিকে, ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলো সাম্প্রতিক লাভ ধরে রেখে স্থিতিশীল হয়েছে এবং শেয়ারবাজারে সামান্য ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।
জার্মানিতে আরও গভীর অর্থনৈতিক সংকোচনের আশঙ্কা বাড়ায় এবং ECB কর্মকর্তাদের কাছ থেকে মিশ্র ইঙ্গিত আসায়, মার্কিন ডলারের সাপ্তাহিক দরপতন থেকে EURUSD তেমন সুবিধা নিতে পারছে না। ECB-এর মুদ্রানীতি বৈঠকের কার্যবিবরণী এবং মার্কিন খুচরা বিক্রির তথ্য প্রকাশের আগে ট্রেডাররা সতর্ক রয়েছেন। ইউরোজোনের রাজনৈতিক অস্থিরতাও এই পেয়ারের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে, আর মার্কিন ডলারের প্রতি বাজারের প্রতিক্রিয়া মিশ্র।
যুক্তরাজ্যে দুর্বল মূল্যস্ফীতির ইঙ্গিত এবং BoE কর্মকর্তা Alan Taylor-এর সুদ কমানোর পক্ষে নরম সুরের মন্তব্যে ব্রিটিশ পাউন্ডের ওপর চাপ পড়ায় GBPUSD তিন দিনের মধ্যে প্রথম দরপতন দেখিয়েছে। যুক্তরাজ্যের মিশ্র অর্থনৈতিক তথ্য অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে। ফলে, যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ খুচরা বিক্রির প্রতিবেদন প্রকাশের আগে ট্রেডাররা সতর্ক রয়েছেন।
এদিকে, USDJPY টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কমে এক মাসের সর্বনিম্ন স্তরের কাছাকাছি রয়েছে। জাপানের শক্তিশালী মূল্যস্ফীতির তথ্য, BoJ গভর্নর কাজুও উয়েদার সুদের হার বাড়ানোর পক্ষে ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য এবং আগামী সপ্তাহে ব্যাংক অব জাপান সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন প্রতিবেদনগুলোর প্রভাবে এই কারেন্সি পেয়ারটি নড়াচড়া করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক তথ্যের অপেক্ষায় ট্রেডাররা। এদিকে, অস্ট্রেলিয়ান, কানাডিয়ান ও নিউজিল্যান্ড ডলারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের বিপরীতে টানা তিন দিনের ঊর্ধ্বমুখী গতি থেমেছে। এসব পণ্য-সংশ্লিষ্ট মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে তাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার কমানোর প্রত্যাশা বেড়ে যাওয়া, চীনের অর্থনীতি নিয়ে চলমান উদ্বেগ এবং অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মিশ্র অর্থনৈতিক তথ্যের কারণে। উল্লেখযোগ্যভাবে, অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লেও USDCAD ঘুরে দাঁড়িয়েছে। অপরিশোধিত তেল কানাডার প্রধান রপ্তানি পণ্য।



মার্কিন ডলারের পুনরুদ্ধার এবং মিশ্র বাজার মনোভাব সোনার ক্রেতাদের ওপর চাপ তৈরি করছে। একই সঙ্গে ক্রুড অয়েল ছয় মাসের সর্বোচ্চ স্তর থেকে পিছিয়ে এসেছে। এর আগে, প্রত্যাশার চেয়ে বেশি মজুত কমে যাওয়া, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং OPEC-এর জ্বালানি চাহিদা নিয়ে আশাব্যঞ্জক পূর্বাভাসে ক্রুড অয়েলের দাম বেড়েছিল।
মূল অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশের আগে সতর্ক বাজার মনোভাব এবং নিয়ন্ত্রক উদ্বেগের কারণে ক্রিপ্টোকারেন্সির দরপতনের পর ঘুরে দাঁড়ানোর গতি থেমেছে। Bitcoin (BTCUSD) চার দিনে প্রথমবার লোকসানে বন্ধ হয়েছে। অন্যদিকে, Trump-সংশ্লিষ্ট টোকেনের প্রতি আগ্রহ বাড়া এবং staking থেকে উত্তোলন বৃদ্ধির মধ্যে Ethereum (ETHUSD)-এর টানা দুই দিনের দরবৃদ্ধি শেষ হয়েছে।
আজকের ট্রেডিং সেশন জমজমাট থাকার কথা। ECB-র বৈঠকের কার্যবিবরণী এবং মার্কিন খুচরা বিক্রির তথ্য থাকবে মূল আকর্ষণে। এ ছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের বেকারত্ব ভাতার দাবি, Philadelphia Fed Manufacturing Survey এবং ECB ও Fed কর্মকর্তাদের বক্তব্যও নজরে থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাস্ফীতির মিশ্র তথ্য এবং EU-এর দুর্বল পরিসংখ্যানের কারণে বড় কোনো চমক না এলে EURUSD চাপের মধ্যে থাকতে পারে। এমনকি বড় চমক এলেও, Fed-এর সুদের হার নিয়ে নতুন করে কড়াকড়ির প্রত্যাশা মার্কিন ডলারকে সাম্প্রতিক দরপতন পুষিয়ে নিতে সাহায্য করতে পারে।
সোনার দর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতে পারে, অন্যদিকে অপরিশোধিত তেল ও পণ্যমূল্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মুদ্রায় মুনাফা তুলে নেওয়ার চাপ আরও বাড়তে পারে। ক্রিপ্টোকারেন্সির দর সম্ভবত সামান্য বাড়বে, তবে শেয়ারবাজারে সপ্তাহজুড়ে হওয়া কিছু দরবৃদ্ধি হারিয়ে যেতে পারে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!