Scan & Get our app!
Get our app!
Download our app and stay connected on the go.
Scan & Get our app!
Scan QR-code to download our app and stay connected on the go.

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ না নেওয়া দেশগুলোর ওপর মার্কিন শুল্ক 90 দিনের জন্য স্থগিত রাখার ঘোষণা দিলে বৈশ্বিক বাজারে চাঙাভাব দেখা দেয়। এতে বিনিয়োগকারীদের মনোভাব উন্নত হয় এবং ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের দর দ্রুত বাড়ে। চীনের ওপর 125% শুল্ক থাকা সত্ত্বেও, মার্কিন শেয়ারবাজার ২০০০-এর দশকের শুরুর পর থেকে এক দিনে সবচেয়ে বড় উত্থান রেকর্ড করে। ঝুঁকি নেওয়ার এই প্রবণতায় প্রধান মুদ্রা, কমোডিটি ও ক্রিপ্টোর দর বেড়ে যায়। একই সময়ে, দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নিয়ে সন্দেহ এবং FOMC মিনিটসে Fed-এর সতর্ক মন্তব্যের কারণে US Dollar Index (DXY) চাপে ছিল।
চীনের দুর্বল মুদ্রাস্ফীতির তথ্য এবং বাণিজ্য নিয়ে বেইজিংয়ের কঠোর অবস্থান সত্ত্বেও, বৃহস্পতিবারের শুরুতে বাজারে ইতিবাচক মনোভাব বজায় ছিল। ASEAN দেশগুলো মার্কিন শুল্কের পাল্টা ব্যবস্থা নেবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর বাজারের মনোভাব আরও চাঙা হয়, এতে বৃহত্তর বাণিজ্যযুদ্ধের আশঙ্কা কমে। তবে গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন CPI তথ্য প্রকাশের আগে ট্রেডাররা সতর্ক ছিলেন। ডলারের দুর্বলতা অব্যাহত থাকায় EURUSD ও GBPUSD-এর ক্রেতারা এবং USDJPY-এর বিক্রেতারা সুবিধা পেয়েছেন। অন্যদিকে, AUDUSD, NZDUSD ও USDCAD নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করেছে। এদিকে, সোনার দাম বেড়েছে, তবে তেল ও ক্রিপ্টোতে আগের দরবৃদ্ধির কিছুটা কমেছে।
ট্রাম্পের শুল্ক বিরতি ইউরো ট্রেডারদের কিছুটা স্বস্তি দিলেও, সম্ভাব্য বাণিজ্যযুদ্ধ এবং চলমান অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা নিয়ে ইউরোপীয় নীতিনির্ধারকদের উদ্বেগে EUR/USD-এর ঊর্ধ্বমুখী চাপের মুখে পড়েছে। চাপ আরও বেড়েছে ECB কর্মকর্তারা সুদের হার কমানোর পক্ষে মত দেওয়ায়। ইউরোজোনজুড়ে নতুন করে মন্দার আশঙ্কাও বাজারের মনোভাবকে আরও দুর্বল করেছে, বিশেষ করে আজকের গুরুত্বপূর্ণ US CPI প্রকাশের আগে।
UK-তে গত 19 মাসের মধ্যে আবাসনের চাহিদা সবচেয়ে দুর্বল হলেও GBPUSD টানা তৃতীয় দিন বেড়েছে। UK ও US-এর সম্পর্কের উন্নতি এবং Britain-এর ওপর কম শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ Pound-কে সমর্থন দিয়েছে। এ ছাড়া, Bank of England-এর কর্মকর্তারা মন্দার আশঙ্কা কমিয়ে দেখায় GBP আরও শক্তিশালী হয়েছে।
এদিকে, ছয় মাসের সর্বনিম্ন পর্যায় থেকে গতকালের উত্থানের পর USDJPY-এর দর আবার কমেছে। জাপানের ইতিবাচক PPI ডেটা Bank of Japan-এর কঠোর নীতির প্রত্যাশা বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য-সহায়ক আলোচনায় বসতে জাপানের আগ্রহও ইয়েনের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।
শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী র্যালির পর AUDUSD ও NZDUSD সামান্য বেড়েছে, তবে China-সংক্রান্ত উদ্বেগ এবং US-এর শুল্কনীতির পরিবর্তন ঘিরে বাজারের সামগ্রিক আশাবাদ—দুটির প্রভাবেই মুদ্রা দুটির গতি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। Australia ও New Zealand ইউরোপ ও UK-র সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির চেষ্টা চালালেও, RBA ও RBNZ-এর ডোভিশ অবস্থান ট্রেডারদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
এদিকে, 2023 সালের জানুয়ারির পর সবচেয়ে বড় পতনের পর USDCAD নিচের দিকেই ছিল। কানাডার প্রধান রপ্তানি পণ্য ক্রুড অয়েলের দরপতন এবং যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ লুনি পেয়ারটির পতন সীমিত করেছে। সুদের হার কমানোর ব্যাপারে BoC-এর প্রস্তুতি এবং কানাডার নাজুক অর্থনৈতিক পূর্বাভাসও USDCAD বিক্রেতাদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন করেছে।



যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নিয়ে বাজারের সামগ্রিক আশাবাদ, দুর্বল মার্কিন ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্যযুদ্ধ নিয়ে মিশ্র উদ্বেগ—সবই সোনার পক্ষে কাজ করছে। চীন থেকে জোরালো চাহিদা এবং অনুকূল টেকনিক্যাল অবস্থাও মূল্যবান এই ধাতুটিকে সমর্থন দিচ্ছে। সপ্তাহের শুরুতে চার মাসের সাপোর্ট লেভেল থেকে হওয়া দরবৃদ্ধি ধরে রাখতে সোনা সক্ষম হয়েছে।
এদিকে, US শুল্ক এবং OPEC+ সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কারণে জ্বালানির চাহিদা সম্পর্কে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। ফলে চার বছরের সর্বনিম্ন স্তর থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর পরও WTI অপরিশোধিত তেলের পক্ষে সেই পুনরুদ্ধার ধরে রাখা কঠিন হচ্ছে। US-এ মজুত প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বাড়ায় এবং আজকের US CPI তথ্যের আগে বাজার সতর্ক থাকায় দামের ওপর আরও চাপ তৈরি হয়েছে।
Trump-এর শুল্ক বিরতি এবং SEC Chair হিসেবে Paul Atkins-এর নিয়োগ Bitcoin (BTCUSD) ও Ethereum (ETHUSD)-এর দর ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করেছে। তবে শিল্পখাতের সতর্ক মনোভাব, দুর্বল অন-চেইন ডেটা এবং ETF থেকে অর্থ বেরিয়ে যাওয়ায় ক্রিপ্টো বাজারের বুলদের ওপর চাপ পড়ছে। এ ছাড়া, US-এর মুদ্রাস্ফীতির ডেটা প্রকাশের আগে সতর্ক মনোভাব Bitcoin ও Ethereum-এর দরবৃদ্ধিও সীমিত করছে।
ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত বুধবারের FOMC Minutes-এর গুরুত্ব ছাপিয়ে গেছে। তবে আরও স্পষ্ট দিকনির্দেশনার জন্য এখন বাজারের অংশগ্রহণকারীদের নজর যুক্তরাষ্ট্রের মার্চের CPI-তে। ইউরোপ, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বক্তব্যও ইন্ট্রাডে ট্রেডারদের ব্যস্ত রাখবে।
যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির হার প্রত্যাশার চেয়ে কম হলে মার্কিন ডলারের ওপর চাপ বাড়তে পারে এবং বাজারজুড়ে আশাবাদ জোরদার হতে পারে, ফলে ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেটের চাহিদা বাড়তে পারে। এতে EUR, GBP ও JPY ক্রেতারা সুবিধা পেতে পারেন, তবে চীনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে AUD, NZD ও CAD-এর ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা চাপের মুখে পড়তে পারে। সোনার দাম শক্তিশালী থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, আর ক্রুড অয়েলে দরপতনের প্রবণতা ফিরতে পারে। ক্রিপ্টোকারেন্সি ও শেয়ারবাজারে সাম্প্রতিক মুনাফার পর সংহতি দেখা যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!