Scan & Get our app!
Get our app!
Download our app and stay connected on the go.
Scan & Get our app!
Scan QR-code to download our app and stay connected on the go.

যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য চুক্তির আশা এবং যুক্তরাষ্ট্রের আশাব্যঞ্জক কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত তথ্যের জেরে গত শুক্রবার বাজারে ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়। তবে সপ্তাহান্তে বেইজিং ও হোয়াইট হাউসের সতর্ক বার্তা, ফেডের সুদ কমানোর সম্ভাবনা কমে আসা এবং OPEC+-এর আকস্মিক পদক্ষেপ বাজারের মনোভাব দুর্বল করে দেয়। এদিকে, এই সপ্তাহের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ইভেন্টের আগে চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও হংকংয়ে ছুটির কারণে ট্রেডিংও ধীর হয়েছে।
এদিকে, ট্রাম্পের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এবং মার্কিন নীতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে মার্কিন ডলার দুর্বলই ছিল, যা সোনা ও প্রধান মুদ্রাগুলোকে সমর্থন দিয়েছে। তবে বাজারের নজর কেড়েছে তেল। সরবরাহ-চাহিদা নিয়ে উদ্বেগে তেলের দাম 4%-এর বেশি কমেছে, যা বাজারের আস্থাকে নাড়িয়ে দিয়েছে।
US ডলারের দুর্বলতা EURUSD ও GBPUSD-কে শুক্রবারের লাভ ধরে রাখতে সাহায্য করছে। অন্যদিকে, টোকিওর বাজার বন্ধ থাকলেও USDJPY টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কমেছে। ECB-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট দে গুইন্দোসের আশাবাদী মন্তব্যে ইউরোর দর সমর্থন পেয়েছে। শক্তিশালী UK উৎপাদন খাতের তথ্যের জেরে পাউন্ড বেড়েছে, আর দুর্বল মর্টগেজের তথ্যকে বাজার উপেক্ষা করেছে। বৃহস্পতিবারের Bank of England-এর সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের আগে বাজারের অবস্থানও GBPUSD-এর এই ঊর্ধ্বগতিতে ভূমিকা রাখছে—বিশেষ করে সোমবার UK-তে ছুটি থাকায়।
এদিকে, ব্যাংক অব জাপানের গভর্নর উয়েদার নরম অবস্থানের ইঙ্গিতবাহী মন্তব্য USDJPY-কে ঊর্ধ্বমুখী করতে পারেনি। জাপানের অর্থমন্ত্রী কাতো ইঙ্গিত দিয়েছেন, বাণিজ্য আলোচনায় দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ড ব্যবহার করার কোনো পরিকল্পনা নেই। ছুটি এবং যুক্তরাষ্ট্র-জাপান আলোচনা থমকে থাকায় ট্রেডাররা সতর্ক; এতে ইয়েনের ওপর চাপ পড়েছে।
অস্ট্রেলিয়ায় সপ্তাহান্তের নির্বাচনে প্রত্যাশামতোই প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজি আরেকটি মেয়াদ নিশ্চিত করেছেন। এতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং যুক্তরাষ্ট্র-অস্ট্রেলিয়া বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আস্থা বেড়েছে। জয়ের পর সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে অ্যালবানিজির কথোপকথনও ইতিবাচক মনোভাব বাড়িয়েছে। ফলে AUDUSD পাঁচ মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে—টানা দ্বিতীয় দিনে বেড়েছে। তবে এপ্রিলে চূড়ান্ত Services PMI পূর্বাভাসের 51.6 থেকে কমে 51.0 হয়েছে।
নিউজিল্যান্ড ডলার (NZDUSD) অস্ট্রেলিয়ান ডলারের (Aussie) দরবৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে 2 দিনের টানা লাভ ধরে রেখেছে। দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে বড় কোনো প্রভাবক না থাকলেও, সামগ্রিকভাবে মার্কিন ডলারের দুর্বলতা থেকে এটি সমর্থন পেয়েছে।
এদিকে, ইতিবাচক সাপ্তাহিক ক্লোজের পর কানাডিয়ান ডলার (USDCAD) দিক নির্ধারণে হিমশিম খেয়েছে। কানাডার প্রধান রপ্তানি পণ্য অপরিশোধিত তেলের দাম কমে যাওয়ায় লুনি চাপের মুখে ছিল। মার্ক কার্নির নির্বাচনে জয় যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সম্পর্ক আরও জোরদার হওয়ার আশা বাড়ালেও, বাণিজ্য আলোচনা ধীরগতিতে এগোনো এবং তেলের দুর্বল চাহিদা বাজারের মনোভাবকে চাপে রেখেছে।
OPEC+ থেকে সরবরাহ বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে খবরের পর WTI ক্রুড অয়েলের দর সপ্তাহের শুরুতেই তীব্রভাবে কমেছে; দিনের মধ্যে পতন হয়েছে 4.0% পর্যন্ত। বৈশ্বিক জ্বালানির চাহিদা নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগ এই পতনের পেছনে ছিল, যার একটি কারণ যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনা।
উৎপাদন কমানো এড়িয়ে যাওয়া সদস্যদের বিরুদ্ধে OPEC+ ব্যবস্থা নেওয়ায়, চীনের অর্থনৈতিক গতি নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী সংশয় থাকায় এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা কমায় তেলের বাজারের মনোভাবের ওপর আরও চাপ পড়েছে। এসব পরিস্থিতির মধ্যে, শক্তিশালী মার্কিন ডলার থাকা সত্ত্বেও WTI এপ্রিলে দেখা 50 মাসের সর্বনিম্ন স্তরের কাছাকাছি পৌঁছেছে।



যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের দুর্বলতা, 21-SMA-তে কারিগরি সাপোর্ট এবং বিশ্ববাজারের অনিশ্চয়তায় সোনার দামে ফের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত ছিল। সোনার দাম দুই সপ্তাহের রেজিস্ট্যান্সও ভেঙে ওপরে উঠেছে, যা এখন সাপোর্ট হিসেবে কাজ করছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সোনা ভোক্তা ভারতের চাহিদা বেড়ে যাওয়া এবং প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার কমাতে পারে—এমন প্রত্যাশা ঊর্ধ্বমুখী গতি ধরে রেখেছে।
এদিকে, দুর্বল US ডলার এবং আরও ETF অনুমোদনের আশায় Bitcoin (BTC) ও Ethereum (ETH) টানা দুই দিনের দরপতনের ধারার অবসান ঘটিয়েছে। তবে, টেকনিক্যাল রেজিস্ট্যান্সের স্তর এবং চলমান বৈশ্বিক বাজার-অনিশ্চয়তা ক্রিপ্টো ক্রেতাদের জন্য বাধা হয়ে রয়েছে।
সোমবার এশিয়া ও যুক্তরাজ্যের বেশিরভাগ বাজার বন্ধ থাকায় ট্রেডিং কার্যক্রম সীমিত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ISM Services PMI এবং সপ্তাহান্তের খবর—যার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য আলোচনা, OPEC+–এর হালনাগাদ তথ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেন আলোচনা—নিয়ে বাজারের প্রতিক্রিয়ায় স্বল্পমেয়াদি ওঠানামা দেখা দিতে পারে।
গাজায় উত্তেজনা বৃদ্ধি, বড় মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির আশা কমে আসা এবং Fed-এর সুদের হার কমানোর প্রত্যাশা হ্রাস—এসব কারণে US Dollar ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা পেতে পারে, বিশেষ করে মার্কিন তথ্য প্রত্যাশার চেয়ে ভালো হলে। এমন পরিস্থিতিতে সোনা, প্রধান মুদ্রা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মুদ্রা এবং ক্রুড অয়েলের ওপর চাপ পড়তে পারে।
তবু, বুধবারের FOMC সিদ্ধান্ত ও বৃহস্পতিবারের Bank of England বৈঠকসহ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় ভরা একটি সপ্তাহ সামনে থাকায় সতর্কতা বাজারের প্রতিক্রিয়া সীমিত রাখতে পারে। এর সঙ্গে বৈশ্বিক ঝুঁকি-সংকেতও মিশ্র রয়েছে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!