Scan & Get our app!
Get our app!
Download our app and stay connected on the go.
Scan & Get our app!
Scan QR-code to download our app and stay connected on the go.

একাধিক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষণা, গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক তথ্য এবং ব্যাংকিং খাতের ধস—সব মিলিয়ে উত্তাল একটি সপ্তাহের পর বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। নীতিনির্ধারকেরা সতর্ক সুরে সুদের হার বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে এবং মার্কিন ডলারের তারল্য বাড়ানোর ব্যবস্থা করে আরেকটি আর্থিক সংকট নিয়ে বাজারের উদ্বেগ প্রশমিত করার চেষ্টা করেছেন। তবে ট্রেডাররা এখনও আশ্বস্ত নন বলে মনে হচ্ছে। ঝুঁকি এড়াতে তাঁরা বন্ড ও ইয়েনে বিনিয়োগ বাড়িয়ে চলেছেন।
সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোতে বেশ বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে। বাজারের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারক কঠোর নিয়ন্ত্রণের ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং ব্যাংকগুলোর সুরক্ষায় আরও পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি দেখিয়েছেন, অন্যদিকে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সুদের হার আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে। ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতায় মার্কিন ব্যালান্স শিটের ওপর চাপ বাড়ায় নীতিতে hawkish অবস্থানের পক্ষেরাও উদ্বিগ্ন হচ্ছেন। এতে উচ্চ সুদের হারের মাধ্যমে অর্থের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে আনার Fed-এর প্রচেষ্টা উল্টে যাচ্ছে।
এর ফলে ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড চাপে রয়েছে এবং মার্কিন ডলার সাম্প্রতিক কিছু ক্ষতি পুষিয়ে নিচ্ছে, যা সোনার দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। তবে সপ্তাহের শেষ গুরুত্বপূর্ণ সূচক—PMI এবং মার্কিন Durable Goods Orders—প্রকাশের আগে সতর্ক মনোভাব থাকায় বাজারের গতি শান্ত রয়েছে।
USDJPY সবচেয়ে বেশি দরপতনের শিকার হয়েছে। অন্যদিকে, EURUSD, GBPUSD ও USDCAD স্পষ্ট দিকনির্দেশনা খুঁজে পাচ্ছে না।
এদিকে, ক্রিপ্টো বাজারে মিশ্র সংকেত দেখা দেওয়ায় BTCUSD এবং ETHUSD-ও কয়েক দিনের সর্বোচ্চ দরের কাছাকাছি এসে সাপ্তাহিক মুনাফার কিছুটা হারিয়েছে।
প্রধান অ্যাসেটগুলোর সর্বশেষ দর ওঠানামা নিচে দেওয়া হলো:



Fed, BoE ও SNB সুদের হার বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও, তারা সবাই ব্যাংকিং সংকট নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল এবং নীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছিল। আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তারাও আর্থিক বাজারে কঠোর নিয়ন্ত্রণের পক্ষে মন্তব্য করেন, যা বাজারের মনোভাবকে চাপে ফেলে। এদিকে, বাজার বিশ্বাস না করলেও যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ ব্যাংকিং খাতে আরও বিপর্যয় ঠেকাতে তাদের সাফল্যের কথা বলে চলেছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বেশ শক্তিশালী। এগুলো আরও মুদ্রাস্ফীতির চাপের ইঙ্গিত দেয়, যার ফলে সুদের হার আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
ফলে ট্রেডাররা সতর্ক রয়েছেন এবং বন্ডের দিকে ঝুঁকছেন। একই সঙ্গে, ঝুঁকির একটি অংশ স্বর্ণে রাখার চেষ্টা করছেন, তবে মার্কিন ডলার এড়িয়ে চলছেন।
দিনের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার PMI তথ্য প্রত্যাশার চেয়ে দুর্বল এসেছে, তবে যুক্তরাজ্যের খুচরা বিক্রিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গেছে।
ফলে, USDJPY বিয়ারিশ ট্রেডারদের আকৃষ্ট করছে এবং AUDUSD নিম্নমুখী প্রবণতাকে ঠেকাচ্ছে, অন্যদিকে সোনার দাম সাম্প্রতিক উত্থানের কিছুটা হারিয়েছে। তবে, মার্কিন ডলারের দুর্বলতার মধ্যে অপরিশোধিত তেল আবার ঊর্ধ্বমুখী গতি ফিরে পাচ্ছে।
নতুন একটি ইতিবাচক প্রস্তাবসহ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিয়ে আশাবাদ এবং অপশনস মার্কেটের মনোভাব—দুটিই সাম্প্রতিক দরপতন সত্ত্বেও BTCUSD ও ETHUSD-এর ক্রেতাদের আশাবাদী থাকতে সাহায্য করছে।
এদিকে, সক্রিয় ট্রেডিং সপ্তাহের শেষটা মন্থর হতে পারে বলে মনে হচ্ছে। তবে PMI এবং যুক্তরাষ্ট্রের Durable Goods Orders-এর তথ্যে চমক এলে বাজার তা হালকাভাবে নেবে না। স্পষ্ট দিকনির্দেশনার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকার, নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ এবং ট্রেজারি কর্মকর্তাদের মন্তব্যের দিকেও নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!