Scan & Get our app!

Get our app!

Download our app and stay connected on the go.

Download app
লগ আউট
Are you sure you want to exist?

অর্ডার বুক: নতুনদের জন্য সম্পূর্ণ নির্দেশিকা

আপনি কারেন্সি পেয়ার, ফরেক্স বা স্টক—যা-ই ট্রেড করুন না কেন, সব লেনদেন নিয়ন্ত্রণে রাখতে অর্ডার বুক থাকা জরুরি। আধুনিক প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে এখানে কাগজের খাতার কথা বলা হচ্ছে না, যেখানে ট্রেডাররা কেনা-বেচার সব তথ্য লিখে রাখেন (এই পদ্ধতিও বেশ কাজে লাগতে পারে)। বরং এমন একটি ডিজিটাল তথ্যভান্ডারের কথা বলা হচ্ছে, যেখানে অর্ডার ট্র্যাক করা এবং ট্রেডিং কৌশল বিশ্লেষণের জন্য তথ্য সঠিকভাবে সাজানো থাকে।

None

অর্ডার বুক দেয়ালে টাঙানো সাধারণ কোনো চার্ট নয়; এটি তথ্যের একটি গতিশীল উৎস, যা রিয়েল টাইমে তথ্য পরিবর্তন ও হালনাগাদ করতে পারে। তথ্যের উৎসের ওপর নির্ভর করে অর্ডার বুক বিভিন্ন ধরনের হতে পারে—যেমন ওপেনিং, ক্লোজিং বা কন্টিনিউয়াস অর্ডার বুক। ট্রেডারদের প্রতিটি ধরন আলাদাভাবে পরিচালনা করতে হয়।

অর্ডার বুক কী?

“অর্ডার বুক কী?”—এই প্রশ্নের উত্তর পেতে, ডিজিটাল বা হাতে লেখা কোনো মাধ্যমে দেখানো ট্রেডের একটি তালিকা কল্পনা করুন। এতে স্টক, কারেন্সি ও শেয়ারের মতো ট্রেডিং উপকরণগুলো দাম এবং ট্রেডিং ভলিউম অনুযায়ী সাজানো থাকে।

অর্ডার বুক থেকে বাজারের গভীরতা বোঝা যায়। অন্যভাবে বললে, এটি এমন একটি সূচক, যা রিয়েল টাইমে হালনাগাদ হয় এবং নির্দিষ্ট সময়ের ট্রেড সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেয়। এ কারণেই অর্ডার বুককে কন্টিনিউয়াস বুকও বলা হয়।

সাধারণত, ক্রেতা ও বিক্রেতারা প্রতিটি এক্সচেঞ্জে নিজেদের পরিচয় গোপন না করেই এই টুল ব্যবহার করেন। অর্ডার বুক অন্য ট্রেডারদের বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের শনাক্ত করতে সাহায্য করে। যারা পরিচয় প্রকাশ করতে চান না, তারা তথাকথিত “ডার্ক পুল” ব্যবহার করেন। এতে এমন গোপন ট্রেড থাকে, যা অর্ডার বুকে দেখানো হয় না। অর্থাৎ, অন্য ট্রেডাররা সেগুলো দেখতে পান না। ফলে কোনো অ্যাসেট কোনো প্রতিষ্ঠান নাকি ব্যক্তির মালিকানাধীন, তা শনাক্ত করতে না পারলে ট্রেডারের সামনে নানা বাধা তৈরি হয়।

কিছু ট্রেডার এক্সচেঞ্জের অর্ডার বুক ব্যবহার না করে অফ-বুক ট্রেডিং পছন্দ করেন। এর প্রধান সুবিধা হলো, মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই দুই পক্ষ সরাসরি দাম নিয়ে আলোচনা করতে পারে। তবে এই কৌশলের একটি বড় অসুবিধা হলো, সময়ের সীমাবদ্ধতা তুলনামূলকভাবে কম থাকে।

ইন্ডাস্ট্রির সেরা ট্রেডিং শর্ত
ডিপোজিট বোনাস
সর্বোচ্চ 200% ডিপোজিট বোনাস 
সর্বোচ্চ 200%
স্প্রেড
0 পিপ থেকে স্প্রেড 
0 পিপ থেকে
পুরস্কারপ্রাপ্ত কপি
ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম পুরস্কারপ্রাপ্ত কপি
ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম
এখনই যোগ দিন

ট্রেডাররা কেন অর্ডার বুক ব্যবহার করেন

এক্সচেঞ্জের অর্ডার বুকের মূল উদ্দেশ্য হলো আরও ভালো সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করা। সময়সীমা যাই হোক, এটি পেশাদার ও নতুন ট্রেডারদের বাজারের মনোভাব বুঝতে সাহায্য করে। তবে কিনে ধরে রাখেন—এমন বিনিয়োগকারীদের জন্য অর্ডার বুক তেমন কাজে আসে না। কারণ, দিনের মধ্যে দামের ওঠানামা তাদের কৌশলে খুব কম প্রভাব ফেলে।

অন্যদিকে, স্বল্পমেয়াদি ট্রেডাররা বাজারের মনোভাব বোঝার পাশাপাশি আর্থিক বাজারকে আরও স্বচ্ছ করতে এই টুলটি বেশ কাজে লাগবে বলে মনে করবেন। তাছাড়া, ট্রেডাররা অন্যান্য ক্রেতা ও বিক্রেতার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন্ড, ভারসাম্যহীনতা ইত্যাদি শনাক্ত করার সুযোগ পান। অর্ডার বুক পাশে থাকলে বাজারে এই মুহূর্তে কারা দাপট দেখাচ্ছে—বুল নাকি বিয়ার—তা আপনি সবসময় জানতে পারবেন।

উদাহরণ: সেল অর্ডারের সংখ্যা বাড়লে বাজারে বিক্রেতাদের চাপ বাড়ছে, যার অর্থ দাম আরও কমতে পারে।

অর্ডার বুক কীভাবে ব্যবহার করবেন

আগেই বলা হয়েছে, অর্ডার বুক একটি ডায়নামিক টুল, যা রিয়েল টাইমে অর্ডারের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে আপডেট করে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্ডার মেলানোর সুবিধা চালু করতে একজন ট্রেডার নিজের পছন্দমতো সেটিংস ঠিক করতে পারেন। যেমন, অ্যাসেটের চাহিদা ও সরবরাহ অনুযায়ী অর্ডারটি সম্পন্ন হতে পারে।

বর্তমান দামের ওপর নির্ভর করে ট্রেডাররা অ্যাসেট কিনতে বা বিক্রি করতে পারেন। সিকিউরিটি কেনা বা বিক্রির জন্য একটি নির্দিষ্ট দাম সেট করে সেই মূল্যস্তর চিহ্নিত করা যায়। দাম সেই স্তরের কাছাকাছি এলে সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্ডারটি সম্পন্ন করবে।

সেরা ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম দিয়ে আপনার ট্রেডিংকে আরও সমৃদ্ধ করুন এবং উন্নত ইন্ডিকেটর ও টুল ব্যবহার করে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ট্রেড করুন। MT4-এর উন্নত সংস্করণটি বিনামূল্যে ডাউনলোড করে ব্যবহার করুন!

অর্ডার বুকের উপাদান

এক্সচেঞ্জের অর্ডার বুক একটি জটিল টুল। এতে এমন কয়েকটি উপাদান রয়েছে, যেগুলো ট্রেডারদের বিবেচনা করা দরকার। এগুলো জানলে অর্ডার বুক কীভাবে কাজ করে এবং কেন এটি দরকার, তা বুঝতে সুবিধা হবে। এর প্রধান উপাদানগুলো হলো:

  • বিক্রেতা ও ক্রেতার দিক—অর্ডার বুকে বাজারদরের রেকর্ড দেখানো হয়। তাই ক্রেতা ও বিক্রেতা হলেন এর দুই প্রধান অংশগ্রহণকারী।
  • আস্ক ও বিড—প্রথম উপাদানটির (বিক্রেতা ও ক্রেতার দিক) বদলে এই পরিভাষাগুলো ব্যবহার করা যায়। এখানে বিড বলতে শেয়ারের সংখ্যা বোঝায়, আর আস্ক শেয়ারের দাম নির্দেশ করে।
  • দাম—এখানে দুই পক্ষই যুক্ত থাকে। অর্ডার বুক ক্রেতা ও বিক্রেতার আগ্রহের তথ্য দেয় এবং তারা কোন দামে আস্ক করছে ও কত পরিমাণ বিড করছে, তা তুলে ধরে।
  • ক্রমযোজিত পরিমাণ—আপনি কোনো নির্দিষ্ট অ্যাসেট বিভিন্ন দামে বিক্রি করলে, মোট কলামে বিক্রি হওয়া অ্যাসেটের মোট পরিমাণ দেখানো হয়।
  • ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা—অর্ডার বুক বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের পারস্পরিক লেনদেনের একটি দৃশ্যমান চিত্র তুলে ধরে। চার্টসহ বিভিন্নভাবে এই তথ্য দেখা যায়। আরও ভালো ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে ব্যবহারকারী উপস্থাপনার ধরন বেছে নিতে পারেন।

অর্ডার বুক ব্যবহারের সুবিধা

কৌশল বা ট্রেডিং পদ্ধতি যা-ই হোক, অর্ডার বুক ট্রেডারদের জন্য খুব কার্যকর হতে পারে। এতে জরুরি তথ্য রিয়েল টাইমে দেখা যায়। ট্রেডাররা ট্রেড হওয়া ভলিউমের পাশাপাশি কেনা ও বেচার দামও অনুসরণ করতে পারেন। অর্ডার বুক ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য হলো নির্দিষ্ট সময়কালে তথ্য সম্পর্কে অবগত থাকা এবং বাজারের গতিপ্রকৃতি ও ট্রেন্ড বোঝা।

তবে, অর্ডার বুক কীভাবে পড়তে হয় এবং এতে কী কী উপাদান রয়েছে, তা আপনার জানা দরকার। এটি শুধু প্রয়োজনীয় সব তথ্য দেখানো কোনো চার্ট নয়। ট্রেডারদের পছন্দ অনুযায়ী এটি বিভিন্ন ধরন ও কনফিগারেশনে সাজানো যায়।

এই উপকরণে বিনিয়োগসংক্রান্ত পরামর্শ, বিনিয়োগের সুপারিশ, আর্থিক উপকরণে কোনো লেনদেনের প্রস্তাব বা আহ্বান নেই এবং এটিকে এমন কিছু আছে বলে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। কোনো বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, ঝুঁকিগুলো বুঝতে পারছেন কি না তা নিশ্চিত করতে স্বাধীন আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নিন।