Scan & Get our app!

Get our app!

Download our app and stay connected on the go.

Download app
লগ আউট
Are you sure you want to exist?

DeFi কী এবং এটি কীভাবে কাজ করে?

DeFi (বিকেন্দ্রীভূত অর্থব্যবস্থার সংক্ষিপ্ত রূপ) হলো ব্যাংকিং ও আর্থিক পরিষেবা পরিচালনার একটি নতুন উপায়। DeFi প্ল্যাটফর্মের মূল ধারণা হলো ব্লকচেইন নেটওয়ার্কে পিয়ার-টু-পিয়ার পেমেন্ট পরিচালনা করা। এর ফলে গ্রাহকেরা ব্রোকার বা ব্যাংকের মতো তৃতীয় পক্ষ এবং আর্থিক মধ্যস্থতাকারীদের এড়িয়ে চলতে পারেন। বর্তমানে এই ব্যবস্থাকে “ট্রাস্ট-লেস” ব্যাংকিং বলা হয়।

None

এই প্রবন্ধে DeFi কী, এটি কীভাবে কাজ করে এবং বিকেন্দ্রীভূত অর্থব্যবস্থা ব্যবহারের প্রধান সুবিধা ও অসুবিধাগুলো ব্যাখ্যা করা হবে।

DeFi-এর সংজ্ঞা ও অর্থের ব্যাখ্যা

আগেই বলা হয়েছে, “DeFi” শব্দটি বিকেন্দ্রীভূত অর্থব্যবস্থার সংক্ষিপ্ত রূপ। ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত—উভয় ধরনের চাহিদা মেটাতে বিভিন্ন আর্থিক পরিষেবা দেওয়ার জন্য এটি তৈরি করা হয়েছে। গ্রাহকেরা লেনদেন করতে, অর্থ স্থানান্তর করতে পারেন এবং আরও অনেক কিছু করতে পারেন। প্রতিষ্ঠানগুলো বীমা বিক্রি করতে এবং ঋণ, ডিপোজিটসহ অন্যান্য আর্থিক পণ্য দিতে পারে।

বিনিয়োগকারীদের জন্য DeFi প্ল্যাটফর্ম ব্যাংক ছাড়াই ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মতো কাজ করতে পারে। প্রচলিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তুলনায় তাঁরা দ্রুত অর্থ পাঠাতে পারেন এবং বেশি রিটার্ন পেতে পারেন। এর অর্থ হলো, ব্যাংকিং ফি ও কমিশন লাগে না এবং বিশ্বের যেকোনো জায়গায় অর্থ পাঠানো যায়।

ইন্ডাস্ট্রির সেরা ট্রেডিং শর্ত
ডিপোজিট বোনাস
সর্বোচ্চ 200% ডিপোজিট বোনাস 
সর্বোচ্চ 200%
স্প্রেড
0 পিপ থেকে স্প্রেড 
0 পিপ থেকে
পুরস্কারপ্রাপ্ত কপি
ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম পুরস্কারপ্রাপ্ত কপি
ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম
এখনই যোগ দিন

DeFi প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

DeFi, BTC-এর মৌলিক ধারণাগুলো গ্রহণ করে সেগুলোকে আরও প্রসারিত করেছে। এর ফলে এখন আমাদের কাছে এমন একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ডিজিটাল পরিকাঠামো রয়েছে, যাকে চাইলে ওয়াল স্ট্রিটের ডিজিটাল বিকল্প বলা যায়। প্রচলিত এক্সচেঞ্জ ও DeFi প্ল্যাটফর্মের মধ্যে মূল পার্থক্য হলো, দ্বিতীয়টিতে ট্রেডিং ফ্লোর পরিচালনা, ব্রোকারদের বেতন, ব্যাংকারদের ফি ইত্যাদি সংশ্লিষ্ট খরচ দিতে হয়।

এ ছাড়া আরও যেসব সুবিধা রয়েছে:

  1. সহজ ব্যবহার। অ্যাকাউন্ট খুলতে শুধু একটি ওয়ালেট তৈরি করলেই হবে। কোনো আবেদনপত্র বা রেজিস্ট্রেশন ফর্ম পূরণ করতে হবে না।
  2. বেনামি থাকা। এই সিস্টেমে কোনো ব্যক্তিগত তথ্য জমা দিতে হয় না। আপনার যোগাযোগের তথ্য ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত থাকে।
  3. স্বাধীনতা। ব্যবহারকারীরা বিশ্বের যেকোনো জায়গায় পিয়ার-টু-পিয়ার পদ্ধতিতে নিজেদের অ্যাসেট পাঠাতে পারেন। টাকার পরিমাণ নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে গেলেও ব্যাংকের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন হয় না। এ ছাড়া, প্রতিটি লেনদেনে ব্যবহারকারীদের বেশি ফি দিতে হয় না।
  4. দ্রুত পেআউট। দ্রুত রিওয়ার্ড এবং সুদের হারের আপডেট (গড়ে প্রতি 15 সেকেন্ডে) বিনিয়োগকারীদের ভালো লাগবে। এ ছাড়া, এগুলো ওয়াল স্ট্রিটের হার ও রিওয়ার্ডের চেয়ে বেশি হতে পারে।
  5. স্বচ্ছতা। কোনো লেনদেন কোনো কোম্পানি বা ব্যক্তি শুরু করুক না কেন, তা 100% স্বচ্ছ। সাধারণত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো এই তথ্য শেয়ার করে না, অথবা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেয়। DeFi-তে 100% স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়, যা এটিকে বিনিয়োগকারীদের জন্য আদর্শ করে তোলে।

এবার দেখা যাক, বিভিন্ন বাজার অংশগ্রহণকারী কীভাবে বিকেন্দ্রীভূত অর্থব্যবস্থা ব্যবহার করে উপকৃত হতে পারেন।

DeFi ব্যবহার করে কারা উপকৃত হতে পারেন?

লেনদেন সম্পন্ন করতে সাধারণত ব্যবহারকারীদের DeFi অ্যাপ ব্যবহার করতে হয়, যেগুলো dapps নামেও পরিচিত। এর বেশিরভাগই Ethereum-ভিত্তিক ব্লকচেইনে চালানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে। আগেই বলা হয়েছে, অ্যাপটি ব্যবহার করতে ব্যক্তিগত কোনো তথ্য দিতে হয় না।

বর্তমানে নিচের শ্রেণির ব্যবহারকারীরা বিকেন্দ্রীভূত অর্থব্যবস্থা থেকে উপকৃত হতে পারেন:

  • ট্রেডাররা – পিয়ার-টু-পিয়ার পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট কিছু ক্রিপ্টো কয়েন ট্রেড করতে পারেন। এটি ব্রোকার ছাড়া শেয়ার কেনা বা বিক্রি করার মতোই।
  • বিনিয়োগকারীরা – DeFi-তে সহজেই ডেরিভেটিভকেনা যায়, পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু ইন্সট্রুমেন্টে লং ও শর্ট পজিশন নেওয়া যায়। অন্যভাবে বললে, ফিউচার্স কন্ট্র্যাক্ট ট্রেড করার জন্য এটি প্ল্যাটফর্মের একটি বিকল্প সংস্করণ।
  • ঋণদাতারা – ব্যক্তি ও কোম্পানিগুলো ক্রিপ্টোকারেন্সি ঋণ দিয়ে প্রতি মাসে দেওয়া রিওয়ার্ড ও সুদের হার পেতে পারেন।
  • ঋণগ্রহীতারা – ব্যক্তি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো প্রচুর কাগজপত্র ছাড়াই এবং অনুমোদনের জন্য কয়েক সপ্তাহ অপেক্ষা না করে ক্রিপ্টোতে ঋণের আবেদন করতে পারেন। এ ছাড়া, ব্যবহারকারীরা তথাকথিত ফ্ল্যাশ লোন থেকেও উপকৃত হতে পারেন, যা বেশিরভাগ আর্থিক প্রতিষ্ঠান দেয় না।

DeFi-এর অসুবিধা

সবকিছু শুনতে হয়তো অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে—কম ফি এবং দ্রুত লেনদেনের এক নতুন পরিবেশ। তবে, অন্তত এখনই DeFi পুরোপুরি নিখুঁত নয়। এটি ব্যবহারের আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অসুবিধা বিবেচনা করা দরকার।

প্রথমত, মধ্যস্থতাকারী ও তৃতীয় পক্ষের ফি না থাকলেও সক্রিয় ট্রেডিং এখনও বেশ ব্যয়বহুল হতে পারে। Ethereum ব্লকচেইনে লেনদেনের ফি সব সময় ওঠানামা করে, ফলে স্বল্পমেয়াদে তা অনুমান করা কঠিন।

দ্বিতীয়ত, কিছু DeFi অ্যাপের কারণে চরম অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। সবশেষে, নিজেদের করের নথি সংরক্ষণের দায়িত্ব একমাত্র ব্যবহারকারীদেরই। মনে রাখবেন, বিভিন্ন অঞ্চলে আলাদা নিয়মকানুন রয়েছে।

শেষ কথা

DeFi-এর বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। Ethereum ব্লকচেইনে পিয়ার-টু-পিয়ার লেনদেনের ভিত্তিতে এটি একটি বিকল্প আর্থিক পরিকাঠামো গড়ে তোলে। তবে, এই প্রযুক্তি এখনও নতুন। একদিকে, এটি বেশি রিটার্ন ও কম কমিশনের সুযোগ দেয়।

অন্যদিকে, সম্ভাব্য রিটার্নের পথে এখনও এমন ঝুঁকি রয়েছে, যেগুলো সামলানো ও সমাধান করা বাকি। এ ছাড়া, ক্রমবর্ধমান প্রতারণা ও চোরদের কথাও মাথায় রাখুন, যারা একবারেই আপনার সব কয়েন নিয়ে যেতে পারে। বাস্তবে, বর্তমানে যেকোনো ক্রিপ্টো বাজারের অংশগ্রহণকারীর ক্ষেত্রেই এমনটা ঘটতে পারে।

এই উপকরণে বিনিয়োগসংক্রান্ত পরামর্শ, বিনিয়োগের সুপারিশ, আর্থিক উপকরণে কোনো লেনদেনের প্রস্তাব বা আহ্বান নেই এবং এটিকে এমন কিছু আছে বলে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। কোনো বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, ঝুঁকিগুলো বুঝতে পারছেন কি না তা নিশ্চিত করতে স্বাধীন আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নিন।